চবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ, অবৈধভাবে হলের সিট দখল নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ ও অবৈধভাবে হলে থাকার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল। ছাত্রশিবির ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সিট দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে, সুপারিশের মাধ্যমে বরাদ্দ দেয়া সিট বাতিল এবং শিবিরের বিরুদ্ধে হল দখলের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সরকারি দল বিএনপির ছাত্রসংগঠনটির নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিলটি কাটা পাহাড় রোড হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ।

সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, যারা প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে এই ক্যাম্পাসকে তাদের ‘মিনি ক্যান্টনমেন্ট’ বানানোর পাঁয়তারা করেছিল, যারা এই ক্যাম্পাসে খুনের রাজত্ব কায়েম করেছিল, যারা ৫ অগাস্ট পরবর্তী এই ক্যাম্পাসকে তাদের জমিদারির ঘোষণা করেছিল, তারা সুকৌশলে এই ক্যাম্পাসের প্রতিটি হল দখল করেছে।

এসময় ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাসীদেরকে’ রাতারাতি শিবিরের সাথী-কর্মী বানিয়ে প্রত্যেকটা হলে তোলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এক্ষেত্রে জামায়াতপন্থি প্রভোস্টদের হাত রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এদিকে ছাত্রদল নেতা হৃদয় সব হলের ‘অবৈধ’ সিট বাতিলের দাবি জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ১১টি হলের ৮টি হলে যারা প্রোভোস্টের দায়িত্ব পেয়েছেন, তারা ‘জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার’। সুকৌশলে ১৫০-২০০ জন সুপারিশের সিট পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির সংবাদ সম্মেলন করে।

সংবাদ সম্মোলনে শাখা শিবিরের সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বজন প্রীতি মুক্ত করণের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে হলের সিট বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। সম্প্রতি ছাত্রদল কর্তৃক অবৈধভাবে সিট দখলের অপচেষ্টা এবং বিভিন্ন হলে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের সুপারিশের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আসন বরাদ্দ দেওয়ার তথ্য উঠে আসছে।

তিনি আরও বলেন, যেসব হলে প্রভোস্টের মাধ্যমে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ তাদের সুবিধা আদায় করতে পারছে না তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করে আদায়ের প্রচেষ্টা সোহরাওয়ার্দী হলের সদ্য পদত্যাগকৃত প্রভোস্টের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে৷

ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলছি, হলের সিট পাওয়া শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার আর সেটা সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আশা করব আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শতভাগ আবাসনের একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরবে।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে শতভাগ আবাসন, আবাসন ভাতা, চাকসু ও সিনেট নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবি জানায় শাখা ছাত্রশিবির।