চিড়া-মুড়ি নিয়ে ঢাকায় আসার ডাক জামায়াতের, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, দেশের মানুষ এখন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও সার পাচ্ছে না। সরকার ক্ষমতায় এসে গণরায় ভুলে গেছে। আন্দোলনের মাধ্যমে গণরায় বাস্তবায়ন করা হবে, না হয় সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় জানানো হবে। 

ডা. শফিক শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামমুখী লং মার্চ উপলক্ষে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ১১ দলীয় জোট আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, সকল বিভাগীয় শহরে আমাদের সমাবেশ হবে। এর পর ঢাকায় সমাবেশ হবে। আপনারা চিড়া মুড়ী নিয়ে ঢাকার সমাবেশে আসবেন। জুলাই সনদের সকল গণ দাবি আমরা আদায় করবো। জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথে থাকবো। আমরা আশাবাদী, আস্থাশীল। দু্র্নীতিমুক্ত ও ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে যত দাবি আছে তা আমরা আদায় করবো ইনশাআল্লাহ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৯৪ সালে যখন সিলেট বিভাগ হয়, তখন একইসাথে কুমিল্লা বিভাগের দাবি উঠেছিল। কিন্তু সেসময় সিলেট বিভাগ হয়েছিল, কুমিল্লা বিভাগ হয়নাই। কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী? আমরা সরকারকে পরিষ্কার বলছি, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ধানাইপানাই করবেন না। কুমিল্লা বিভাগ দেন, পাশের নোয়াখালী তারাও বিভাগ চাচ্ছেন, তাদেরকেও দেন। কিন্তু কুমিল্লা বিভাগের দাবি যেহেতু ৯৪ সাল থেকে আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করেন।

বর্তমান সরকারও বলেছেন বিভাগ দিবেন, তো দিচ্ছেন না কেন? বিভাগের প্রশাসনিক কাজ করার ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করুন। এরপর এখানে এয়ারপোর্ট হওয়ার যে বিষয়টা রয়েছে, এখানে একটা ইপিজেড আছে, এখানে প্রশিক্ষণের জন্য একটা এয়ারপোর্টও আছে, সেই এয়ারপোর্টের সম্ভাব্যতা যাচাই করে যদি সবদিক থেকে উত্তম হয়, তাহলে জনগণের জন্য এয়ারপোর্টটাও চালু করেন। 

তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো সংসদে সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়ে তার কোনো খবর নাই। আমরা কী বলব, উনার দলেরই একজন সিনিয়র সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ মাদকের সয়লাবে ভাসছে। আর সবচেয়ে বড় চালান আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ি দিয়ে। তিনি তার নিজের বাড়ির মাদকের চালান বন্ধ করতে পারেন না, তিনি আবার সব মন্ত্রীদের দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন। আমরা তাকে বলব, যদি আপনি এই মন্ত্রণালয় থাকেন, আপনি সব ছেড়ে দিয়ে আগে এইটা করেন। আমাদের যুব সমাজকে রক্ষা করেন। দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ওই পথসভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগরী আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।  

এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এলডিপির প্রেসিডেন্ট  কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ বলেন,  ডিসেম্বের মধ্যে সরকারের পতন হবে। ২০২২ সালে বলেছিলাম শেখ হাসিনা এক কাপড়ে দেশ ত্যাগ করতে হবে। তাই হয়েছে।  আপনারা ঐক্যবদ্ধ  হন আমরা ক্ষমতায় আসবো। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসলে দেশে শৃঙ্খলা  ফিরবে। 

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার পদান্ক অনুসরন করছেন। শেখ হাসিনা মেগা প্রকল্পের নামে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি করে গিয়েছেন। এ সরকার কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে জনগণকে ধোকা দিচ্ছেন।  এ দেশের মানুষ সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে। তিনি বলেন, আমাদের এ আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলন নয়। গণরায় বাস্তবায়নের আন্দোলন।  

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়া বলেন, বাংলাদেশ এখন কঠিন সময় পাড় করছে।  মানুষ ৩ বেলা খেতে পায় না। লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন। সরকার ১৮ কোটি মানুষের গণরায় বাস্তবায়ন  করছে  না। তিনি আরও বলেন, ১২শ টাকার বিদুৎ বিল ৪ হাজার টাকা হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ মন্ত্রী বিদুৎ দিতে না পেরে  আইসিইউতে চলে গেছেন। 

পথ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাছির উদ্দিন পাটোয়ারী, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।