চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর অফিসে ভাঙচুর-লুটপাটের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার শিল্প ও সীমান্ত শহর দর্শনায় নির্ধারিত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় রেলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ২১ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- রকিবুল হাসান ব্রাইট (৩৪) ও আমিন হোসেন (২২)।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চিহ্নিত গ্রুপকে বিভিন্ন অঙ্কের চাঁদা দিয়ে আসছিলেন তিনি। রফিকুলের দাবি, কখনো ৫ লাখ, আবার কখনো ২০, ৩০ বা ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে ও তার ছেলে-মেয়েকে অপহরণ করে হত্যার এবং তার মালিকানাধীন হোটেল ও সিঅ্যান্ডএফ অফিসে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে তিনি দর্শনা রেলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ অফিসে বসে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি জোর করে অফিসে ঢুকে নগদ টাকা লুট করে। পরে অফিসের প্রয়োজনীয় মালামাল ও আসবাব ভাঙচুর এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিঁড়ে তছনছ করে তারা চলে যায়।

ঘটনার পর বিষয়টি থানা ও জেলা পুলিশকে জানানো হলে শুক্রবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার ও দর্শনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

দর্শনা থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম শনিবার বলেন, এ ঘটনায় ২১ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রকিবুল হাসান ব্রাইট ও আমিন হোসেনকে রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার দুপুরে তাদের চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মো. রুহুল কবির খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন সময় একদল দুর্বৃত্ত সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী ও রিফাত হোটেলের মালিক রফিকুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে না চাওয়ায় তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। মামলা হয়েছে এবং দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।