আমি দুঃখিত স্যার। আমাকে ভুলে যাবেন। চীনা ব্যবসায়ীর মোবাইলে এমন খুদে বার্তা পাঠিয়ে এক কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছিলেন তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক জাহিদ হাসান।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ঝিনাইদহ থেকে জাহিদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অপর দুজন তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার ও মামা মো. আক্তারুজ্জামান। তিনজনই ঝিনাইদহের বাসিন্দা।
তাদের কাছ থেকে ৯৭ লাখ ৩ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ক্যাডেট ক্লাবের সামনে চীনা ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে এক কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যান চালক জাহিদ হাসান। ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন লিমিটেডের শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য খরচের জন্য ওই টাকা গাড়িতে রাখা হয়েছিল।
টাকা নিয়ে পালানোর পর চীনা ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোনে ইংরেজিতে একটি খুদে বার্তা পাঠান জাহিদ।
সেখানে তিনি লেখেন, আমি দুঃখিত স্যার। আমাকে ভুলে যাবেন। গাড়িটি লে ডি’ অর কফি শপের পার্কিংয়ে রেখে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
খুদে বার্তায় জাহিদ আরও লেখেন, আমি আপনার প্রতি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব। উপরওয়ালা জানেন, আমি জীবনে কারও বিশ্বাস ভঙ্গ করিনি। তবে আমাকে এটি করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি জানি না, বাঁচব কি না। যদি বেঁচে থাকি, আপনার টাকা ফেরত দেব।
এ ঘটনায় ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন লিমিটেডের প্রশাসন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আকরামুল ইসলাম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
মামলার পর তদন্তে নামে শিল্প পুলিশ। পরে ঢাকার তদন্তকারী কর্মকর্তার রিকুইজিশনের ভিত্তিতে ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম অভিযান শুরু করে। একপর্যায়ে হরিণাকুণ্ডু থেকে জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে নগদ ৮৭ লাখ ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরে জাহিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাঞ্চননগর থেকে তার মামা দাউদ হোসেনের ছেলে মো. আক্তারুজ্জামানকে (৫১) গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে আরও এক লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া জাহিদের স্ত্রী নাসিমা আক্তারের (২৪) বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ১০ লাখ টাকা।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদ জানিয়েছেন, চুরি করা টাকার মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার টাকা তিনি খরচ করেছেন। এর মধ্যে নতুন বাসা ভাড়া নেওয়া, আসবাবপত্র কেনা এবং ৩৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোবাইল ফোন কেনার কথা জানিয়েছেন তিনি। পুলিশ ওই আসবাবপত্র ও মোবাইল ফোনও জব্দ করেছে।
ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার রিকুইজিশনে ঝিনাইদহ ডিবি ও সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম অভিযান চালায়। প্রথমে হরিণাকুণ্ডু থেকে জাহিদকে এবং পরে শহরের কাঞ্চননগর থেকে তার মামা ও স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত টাকার বড় একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা টাকা ও গ্রেপ্তার তিনজনকে শনিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।