হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে কানাডার টরন্টোতে শেষ হয়েছে ৪০তম ফোবানা সম্মেলন।
৪ সেপ্টেম্বর ডন ভ্যালি হোটেলে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবারের ফোবানা সম্মেলন। প্রথম দিনেই বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কিংবদন্তি চিত্রনায়িকা ববিতা, জাদুসম্রাট জুয়েল আইচ, সাবেক ফুটবলার এনায়েতুর রহমান ও অভিনেত্রী শান্তা ইসলামসহ আরও অনেকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেলিম চৌধুরী, আঁখি আলমগীরসহ বাংলাদেশ ও টরন্টোর স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। গান, নৃত্য, তারকা শিল্পীদের পরিবেশনা, গুণীজনের সম্মাননা এবং দেশীয় খাবার ও পণ্যের পসরা—সব মিলিয়ে ডন ভ্যালি হোটেল হয়ে উঠেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ।
ফোবানা ও টেস্ট অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয় বড় পরিসরের প্রাণবন্ত বাংলাদেশি মেলা। টরন্টোর বার্চমাউন্ট রোড ও ড্যানফোর্থ রোডের সংযোগস্থলে আয়োজিত এ মেলায় মানুষের ঢল নামে। দেশীয় পোশাক, গয়না, বিভিন্ন পণ্য ও খাবারের দোকানের পাশাপাশি ছিল গান ও নৃত্যের আয়োজন। প্রবাসের মাটিতে এ মেলা হয়ে ওঠে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা।
শেষ দিনে সংগীত পরিবেশন করেন ডলি সায়ন্তী, ফকির সাহাবুদ্দিন ও শাহনাজ বেলীসহ জনপ্রিয় শিল্পীরা। তাঁদের পরিবেশনায় উৎসবের শেষ দিনটিও হয়ে ওঠে আনন্দমুখর।
এদিন টরন্টোর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইস্ট ইয়র্কের সদ্য নির্বাচিত এমপি তানভীর শাহানাজ, স্কারবরোর সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী ডা. তরুণ, টরন্টো মেয়র নির্বাচনের প্রার্থী ব্র্যাড ব্র্যাড, স্থানীয় সিটি কাউন্সিলর পারথি কান্দাভেলসহ স্থানীয় রাজনীতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
মেলার দ্বিতীয় দিনে উপস্থিত ছিলেন টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকেও অনেকে ফোবানার এ আয়োজনে অংশ নেন।
দেশীয় সংস্কৃতির আবহে তিন দিনের আয়োজন শেষ হলেও ফোবানার মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেন আবারও ফিরে পেলেন নিজেদের শেকড়ের স্পর্শ।