বিমানে সহযাত্রীকে মারধর ও গালাগাল: উগ্র যাত্রীকে ডাক্ট টেপে বাঁধলেন সহযাত্রীরা

যুক্তরাষ্ট্রে এক বিমানে যাত্রীকে হামলা ও গালাগালের অভিযোগে সিটের সঙ্গে ডাক্ট টেপ দিয়ে আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) টেক্সাস থেকে নিউ জার্সির নিউয়ার্কগামী আমেরিকান এয়ারলাইনসের এক ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যাত্রীর নাম আর্থার লুন্ডিন। ৬৭ বছর বয়সি এই ব্যক্তি অ্যারিজোনার বাসিন্দা।  

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ফ্লাইটের প্রায় দুই ঘণ্টা পর লুন্ডিন পাশের সিটে বসা এক যাত্রীর গলা চেপে ধরেন। তখন একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন যাত্রী তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি বর্ণবাদী ও সমকামীবিদ্বেষী গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।  

ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, লুন্ডিনকে সিটের সঙ্গে ডাক্ট টেপ দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা হয়েছে। তার দুই হাত জিপ টাই দিয়ে বাঁধা ছিল।  

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হুয়ান মেহিয়া বলেন, সবকিছু হঠাৎ করেই পাল্টে যায়। শান্ত পরিবেশ মুহূর্তেই চিৎকার আর বিশৃঙ্খলায় ভরে যায়। পেছনে তাকিয়ে দেখি, পাশের লোকটা কারও গলায় হাত দিয়ে হামলা করছে। তিনি আরও জানান, হস্তক্ষেপ করার পর লুন্ডিন বর্ণবাদী গালি ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন এবং নারীদের প্রতিও অত্যন্ত আপত্তিকর আচরণ করেন।  

ঘটনার পর বিমানটি স্থানীয় সময় রাত সাড়ে দশটার দিকে বাল্টিমোর-ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (বিডব্লিউআই) অবতরণের জন্য গতিপথ পরিবর্তন করে। বিমান অবতরণের পর পুলিশ লুন্ডিনকে হেফাজতে নেয়। তার বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খল আচরণ এবং দ্বিতীয় মাত্রার হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।  

ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ঘটনাটি তদন্ত করছে। এফবিআই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ফেডারেল অভিযোগ আনা হবে কি না, সে বিষয়ে মেরিল্যান্ড জেলার ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করবে।  

এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে বিমানে যাত্রীকে ডাক্ট টেপ দিয়ে আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে মিলওয়াকি থেকে ডালাসগামী এক ফ্লাইটে এক যাত্রী বিমানের দরজা জোর করে খোলার চেষ্টা করে এবং এক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টকে আহত করেন। পরে তাকেও সিটের সঙ্গে ডাক্ট টেপ দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল।  

এফএএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত এক হাজার ১৬০টির বেশি উচ্ছৃঙ্খল যাত্রীর ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো যাত্রী বিমানকর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি বা কাজে বাধা দিলে ফৌজদারি শাস্তির পাশাপাশি ৪৩ হাজার ডলারের বেশি জরিমানা হতে পারে।  

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ