বিরোধীদলীয় নেতাকে ১৫০ টাকার দুপুরের খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচনার সময় এক ভিন্নধর্মী ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাদাসিধে জীবনযাপন ও স্বল্পমূল্যের দুপুরের খাবারের প্রশংসা করায় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে ১৫০ টাকার লাঞ্চের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির আওতায় ‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক সাধারণ আলোচনা চলছিল। এই আলোচনার এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়িতার প্রসঙ্গটি উঠে আসে।

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর স্বল্প খরচের দুপুরের খাবারের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা উৎসাহিত হই যখন দেখি—মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লাঞ্চের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আমার ভালো লাগে। এত কম টাকায় আমিও খাইতে পারি না। একদম প্লেইনলি বলতেছি।’

বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্যের পরপরই সংসদ কক্ষে হাসির রোল পড়ে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাত নেড়ে ইশারায় তাকে খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। একই সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও মাইক ছাড়াই আসন থেকে জানান যে বিরোধীদলীয় নেতাকে এই খাবার খাওয়ানো হবে।

আমন্ত্রণের জবাবে শফিকুর রহমান ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘খাওয়ায় দেবেন? অনেক ধন্যবাদ। কিন্তু আমি তো একা খাব না। আমি তো ১৮ কোটি মানুষ নিয়ে খেতে চাই। আমি সবাইকে নিয়ে খেতে চাই। তারপরও ধন্যবাদ এই প্রস্তাবটি দেওয়ার জন্য।’

প্রধানমন্ত্রীর পোশাক ও জীবনযাত্রার প্রশংসা করে শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাদামাঠা জীবন যাপন করেন, যা অনুসরণ করার মতো। তিনি জাঁকজমকপূর্ণ বা বিলাসী জীবন পরিহার করে সাধারণ পথ চলেন, যা ইতিবাচক।

তবে প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ জীবনযাপনের প্রশংসা করলেও তার অনুসারীদের আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, দলের কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর মিতব্যয়িতার প্রশংসা করলেও নিজেরা ঠিক বিপরীত ও বিলাসী জীবনযাপন করেন। শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী যদি তাদের আদর্শ বা ‘আইকন’ হয়ে থাকেন, তবে সব ক্ষেত্রে তার আদর্শেরই প্রতিফলন থাকা উচিত, যা বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না।

পরিশেষে বিরোধীদলীয় নেতা সতর্ক করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আদর্শ বা আইকন হিসেবে দাবি করার আগে সবাইকে সংযত হতে হবে এবং তার আদর্শ ধারণ করতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রীও মানুষ এবং তিনিও ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তাই তার সব বিষয়ে অন্ধভাবে সম্মতি দেওয়া যাবে না। একমাত্র শিশুদের যৌক্তিক দাবির ক্ষেত্রেই নিঃশর্ত সম্মতি দেওয়া চলে।