জাতীয় হৃদরাগ ইনস্টিটিউটে পরীক্ষানিরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি মেশিন অনেক দিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এতে রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই মেশিন মেরামত করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারের ‘ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিক্যাল ইক্যুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে’ (নিমিউ অ্যান্ড টিসি) কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে। কিন্তু কয়েক বছরেও সেগুলো সচল করা যায়নি। দীর্ঘদিন মেরামতের অপেক্ষায় পড়ে থেকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রগুলো মরিচা পড়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ার অবস্থা হয়েছে। বাধ্য হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখন বিকল্প ব্যবস্থায় মেশিনগুলো সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ মেশিনগুলো মেরামত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দ্রুত এই মেরামতের কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘নিমিউ অ্যান্ড টিসি’ একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তারা মেশিন ঠিক করবে কী, ঐ প্রতিষ্ঠানেরই সংস্কার জরুরি।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে দ্রুত সুচিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হলে জাতীয় হৃদরাগ ইনস্টিটিউটের মতো সকল বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসমূহে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু করে দ্রুত জনবল নিয়োগ করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এসব চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনেশিয়ান থাকলে নিয়মিত হাসপাতালের পরীক্ষানিরীক্ষা ও অপারেশন থিয়েটারের এবং সিসিইউ ও আইসিইউর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের যন্ত্রপাতি নিয়মিত মনিটরিংয়ের মধ্যে থাকবে। কোনো মেশিনের সমস্যা হলে তাত্ক্ষণিক ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনেশিয়ান গিয়ে সচল করতে পারবেন।
জাতীয় হৃদরাগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ওয়াদুদ চৌধুরী স্থানীয়ভাবে বিকল মেশিনগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা মেশিনগুলো মেরামতের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছি। এ বিষয়ে কাজ চলছে।’
প্রসঙ্গত, সারা দেশ থেকে প্রতিদিন জাতীয় হৃদরাগ ইনস্টিটিউটে শত শত রোগী চিকিৎসাসেবার জন্য আসেন। কিন্তু রোগীর তুলনায় জনবল সংকট রয়েছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এই চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে ধনী-গরিব সবাই পান উন্নত চিকিৎসাসেবা।
রাজধানীর আগারগাঁও ৪০০ বেডের হৃদরাগ ইনস্টিটিউটটি বর্তমানে ১২৫০ বেডে উন্নীত করা হয়েছে। তারপরও সংকটাপন্ন কিংবা জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার মতো রোগীদের বেড পাওয়া যায় না। প্রতিদিন এখানে ৩৫০ জন সংকটাপন্ন রোগী ভর্তি করা হয়ে থাকে।