নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ের ১৮ শিক্ষার্থীর আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়ার নেপথ্য কারণ উদঘাটন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সরেজমিন তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিদ্যালয়সংলগ্ন ধানক্ষেতে প্রয়োগ করা ‘এসিমিক্স’ নামের একটি কীটনাশকের বিষাক্ত বাষ্প বাতাসের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যান হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল। তদন্ত দল দেখতে পায়, বিদ্যালয়ের সীমানা ঘেঁষা উত্তর-পশ্চিম পাশের জমিতে কীটনাশক ছিটানো হয়েছিল। সেই বিষাক্ত বাষ্প বাতাসে ভেসে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র শারীরিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয় এবং অনেকে অচেতন হয়ে পড়েন।
ইউএনও রাসেল ইকবাল জানান, সোমবার জমিতে এক কৃষক ওই কীটনাশক স্প্রে করেছিলেন। তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট কৃষক কীটনাশকের বোতলটি নিয়ে আসেন। বোতলের নির্দেশিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই তরলের তীব্র গন্ধ বা সংস্পর্শে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, শারীরিক অস্থিরতা এবং চেতনা হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার সতর্কতা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বোতলসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। ইউএনও জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালে সীমানাসংলগ্ন কৃষিজমিতে যেকোনো ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একান্ত প্রয়োজনে কীটনাশক ব্যবহার করতে হলে তা শুক্র ও শনিবারের মতো সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুরে হাতিয়ার তমরুদ্দি ইউনিয়নের জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে ষষ্ঠ, সপ্তম ও দশম শ্রেণির ১৮ শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ১৩ জনকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর রাতেই সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যায় এবং মঙ্গলবার তারা স্বাভাবিকভাবেই শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে।