স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বেনজীরকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে কোনো শৈথিল্য দেখাবে না সরকার

বিদেশে অবস্থানরত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাবে না বলে স্পষ্ট করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই কথা জানান।

সংসদে প্রস্তাব গ্রহণ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য:

জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের আনা ১৪৭ বিধির নোটিশের ওপর দীর্ঘ আলোচনার পর কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ কীভাবে দুবাইয়ে জামিন পেলেন এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা বলা হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বেনজীরকে ‘সিরিয়াল কিলার’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ২০০৯ সাল থেকে চলা গুম-খুন ও নির্যাতনের পেছনে শেখ হাসিনার পর বেনজীরের ভূমিকা ছিল প্রধান। তার বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ জব্দে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

আইনি প্রক্রিয়া ও কূটনৈতিক তৎপরতা:

যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য দেশের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএইচ) সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি কোনো দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় দেশটির অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে। গত ১৬ জুন আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানোর পর ইউএইর চাহিদামতো অতিরিক্ত নথিপত্র এবং আইনি ব্যাখ্যা দিতে দেশটিতে একটি ল’ ফার্মও নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া সেন্ট লুসিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন শোনা গেলেও, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বেনজীর এখনো দেশটিতেই রয়েছেন।

পররাষ্ট্র ও অন্যান্য মন্ত্রীদের প্রতিক্রিয়া:

আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, বেনজীরের ওপর কড়া নজর রাখতে ইউএই প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে এবং কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ বিভিন্ন সংসদ সদস্যরা সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার গুম, খুন ও দুর্নীতির কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।