‘জাতিসংঘের স্বার্থেই কাজ করব, বাইরের কারও নির্দেশনা নেব না’: শপথে ড. খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংস্থার বাইরের কোনো সরকার বা অন্য কোনো উৎসের নির্দেশনা গ্রহণ করবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সম্পূর্ণ সততা, আনুগত্য ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করে তিনি জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সনদ ও আচরণবিধি অনুযায়ী কেবল বৈশ্বিক এই সংস্থার স্বার্থেই তিনি সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন। শপথ নেওয়ার পরপরই তিনি অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমে সভাপতিত্ব শুরু করেন।

শপথ নেওয়ার সময় ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে আমার ওপর অর্পিত কর্তব্য ও কার্যাবলি সম্পূর্ণ আনুগত্য, বিচক্ষণতা এবং বিবেক ও সততার সঙ্গে পালন করব। জাতিসংঘের সনদ এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতির আচরণবিধির আলোকে আমি শুধু জাতিসংঘের স্বার্থে এই কার্যাবলি সম্পাদন করব।’ তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি জাতিসংঘের বাইরের কোনো সরকার বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা চাইবেন না বা গ্রহণ করবেন না।

ড. খলিলুর রহমানের এ শপথ ও দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘ চার দশক পর সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ ফিরে পেল বাংলাদেশ। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে এ মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।

এর আগে গত ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করে সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান। ওই ভোটাভুটিতে তিনি ৯৯টি সদস্য দেশের সমর্থন অর্জন করেন। এদিকে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে।