ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলায় কাজ হারাচ্ছেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী

ফিলিস্তিনের সমর্থনে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ায় হলিউডে এখনো পেশাগত বঞ্চনা ও বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অস্কারজয়ী প্রখ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন। ইতালিতে চলমান ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের নতুন সিনেমা ‘দ্য ইকো চেম্বার’-এর প্রচারণাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ৭৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী এ কথা জানান।

সুসান সারান্ডন উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে বিশ্বজুড়ে জনমতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তবে জনমতের এই পরিবর্তনের প্রতিফলন হলিউডের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা যাচ্ছে না। তার দাবি, এখনও হলিউডের কিছু প্রভাবশালী ট্যালেন্ট এজেন্সি প্রযোজকদের তাকে সিনেমায় না নেওয়ার জন্য অনানুষ্ঠানিক পরামর্শ দিয়ে আসছে। বিশেষ করে বড় স্টুডিওগুলো ফিলিস্তিনের পক্ষে কিংবা ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা শিল্পীদের কাজ দিতে অনীহা দেখাচ্ছে।

হলিউডের এই বিরোধিতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তার বেশ কয়েকটি সিনেমার কাজ হাতছাড়া হয়েছে বলে জানান সারান্ডন। তবে বৈশ্বিক পরিসরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া উষ্ণ অভ্যর্থনায় তিনি আনন্দিত। প্রতিকূলতার মধ্যেও ‘দ্য ইকো চেম্বার’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার জন্য পরিচালক আন্দ্রেয়া পাল্লাওরোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। প্রখ্যাত ইতালীয় নির্মাতা বের্নার্দো বের্তোলুচ্চির শেষ চিত্রনাট্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে সারান্ডন একজন বয়স্ক গায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিটি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ সম্মান ‘গোল্ডেন লায়ন’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত ২১টি ছবির তালিকায় রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর ফিলিস্তিনপন্থী এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার জেরে সারান্ডনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের চুক্তি বাতিল করেছিল হলিউডের শীর্ষ প্রতিভা ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘ইউনাইটেড ট্যালেন্ট এজেন্সি’ (ইউটিএ)।

এদিকে এবারের ভেনিস উৎসবেও ফিলিস্তিনের ওপর চলা আগ্রাসন গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। উৎসবের বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে। তবে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের শৈল্পিক পরিচালক আলবের্তো বারবেরা স্পষ্ট করেছেন যে ইতালি সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় উৎসব প্রাঙ্গণে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানো সম্ভব হয়নি।