ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় এক যুবকের শরীরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর পাশের জলাশয়ে লাফিয়েও নিজেকে বাঁচাতে পারেননি তিনি। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে মুক্তাগাছা পৌর শহরের মধ্যহিস্যা এলাকায় একদল লোক তার শরীরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে মৃত্যুর আগে স্বজনদের কাছে জানান ভুক্তভোগী।
নিহত ফরহাদ হোসেন (৩৫) ওই এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তিনি পেশায় সবজি বিক্রেতা ছিলেন। বেকারদের কর্মসংস্থানের দাবিসহ বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ারও ঘোষণা দিয়েছিলেন ফরহাদ।
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য, বুধবার রাত ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হন ফরহাদ। এ সময় পেছন থেকে একদল লোক তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আগুন থেকে বাঁচতে তিনি পাশের একটি জলাশয়ে লাফিয়ে পড়েন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ফরহাদের মৃত্যু হয়।
ফরহাদের বাবা আব্দুস সাত্তার বলেন, তার ছেলে মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনসহ নানা সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে কিছু লোকের সঙ্গে ফরহাদের বিরোধ ছিল। তারাই এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।
মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরহাদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। ফরহাদ পুলিশকে জানিয়েছেন, বাসা থেকে বের হয়ে কিছুটা দূরে নির্জন স্থানে যাওয়ার পর পেছন থেকে একজন তার শরীরে পেট্রোল ছিটিয়ে দেন। পরে অপর একজন আগুন ধরিয়ে দেন। তবে তাদের কাউকেই তিনি চিনতে পারেননি।
ওসি বলেন, কী কারণে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।