বন্ধুদের সঙ্গে মাওয়া ঘুরতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো নাহ হৃদয় হোসেনের (২৭)। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের কুচিয়ামোড়া ব্রিজের ঢালে দ্রুত গতির একটি মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটনাস্থলে হৃদয় নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরোহী সাজ্জাদ (২৪) নামে আরেক মোটরসাইকেল আরোহী।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ছয়টার দিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কুচিয়ামোড়া সেতুর ঢালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হৃদয় হোসেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামের প্রয়াত সায়েদ মিয়ার ছেলে। তিনি সৌদি আরবে ছিলেন। প্রায় চার মাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন। চলতি মাসের শেষ দিকে তার সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। আহত সাজ্জাদ সিরাজদিখানের উত্তর ঘোড়ামারা এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম রবিউল আউয়াল।
ফায়ার সার্ভিস ও নিহত ব্যক্তির স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে চারটি মোটরসাইকেলে করে হৃদয়সহ আট বন্ধু মাওয়া ঘুরতে যান। সেখানে রাতে ঘোরাঘুরি ও খাওয়াদাওয়া শেষে ভোরে কেরানীগঞ্জের দিকে ফিরছিলেন তারা। কুচিয়ামোড়া সেতুর ঢালে পৌঁছালে দ্রুতগতির কারণে হৃদয়ের মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর পড়ে যায়। এ সময় হৃদয় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কের রেলিংয়ে গিয়ে আঘাত পান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
হৃদয়ের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বিবাহিত ছিলেন। তার ২২ মাস বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন হৃদয়।
হৃদয়ের বোনের স্বামী শাহীন আলম বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর হৃদয় সংসারের হাল ধরে। মা, স্ত্রী ও সন্তানের সবকিছুর দেখভাল সে করত। কিছুদিন পর দেশের বাইরে চলে যাওয়ার কথা ছিল। এ জন্য বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছিল। ঘুরতে গিয়ে যে আর ফিরবে না, কে জানত।’
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল ৬টা ২১ মিনিটে সিরাজদিখান ফায়ার স্টেশনে দুর্ঘটনার খবর আসে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে হৃদয়কে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহত সাজ্জাদকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরে হৃদয়ের মরদেহ হাসাড়া হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন।