৪০ পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ, দেয়াল-বেড়া টপকে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল

পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রায় ৪০টি পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তার মাঝখানে ইটের দেয়াল নির্মাণ ও টিনের বেড়া দিয়ে পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে কেউ দেয়াল টপকে, আবার কেউ টিনের বেড়া পার হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে স্বরূপকাঠি পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আচার্য্যপাড়া এলাকায়। স্থানীয় সুব্রত আচার্য্য ও সোহাগ আচার্য্যের বিরুদ্ধে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তাটি বহু পুরোনো। সরকারি খাসজমির ওপর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের মানুষ যাতায়াত করে আসছেন। সম্প্রতি রাস্তার ওপর দেয়াল ও টিনের বেড়া নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এতে প্রায় ৪০ থেকে ৪২টি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বিশেষ করে নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীদের দেয়াল ও টিনের বেড়া টপকে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানান তারা।

বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে ১১২ জন স্থানীয় বাসিন্দা গণস্বাক্ষর করে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। আদালত সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয়দের দাবি, গত বৃহস্পতিবার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টিনের বেড়া দেখে তা সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও অভিযুক্তরা এতে সাড়া দেননি।

ভুক্তভোগী মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমাদের বহু বছরের চলাচলের রাস্তা। এই পথ দিয়ে প্রায় ২০০ মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে ইটের দেয়াল ও টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এখন নারী, শিশু ও স্কুলশিক্ষার্থীদেরও দেয়াল-বেড়া টপকে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’

স্থানীয় বাসিন্দা পলাশ কুমার দাস জানান, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয়দের চলাচলের জন্য ওই রাস্তা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জমিটি খাস বলে তাঁরা জানেন।

তবে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুব্রত আচার্য্য ও সোহাগ আচার্য্য। তাদের দাবি, ফিরোজ নামে এক ব্যক্তি জোরপূর্বক ওই জায়গা দিয়ে রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁরা বলেন, ‘কারও জমি দিয়ে চলাচল করতে হলে আপসের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করতে হবে।’

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হান মাহমুদ বলেন, ঘটনাস্থলে প্রায় চার শতক খাস জমি রয়েছে। তবে রাস্তার জায়গাটি খাস জমির মধ্যে পড়েছে কি না, তা সরেজমিনে মাপজোখ করে নিশ্চিত হতে হবে। তিনি বলেন, ‘খাস জমির অংশ যদি রাস্তার মধ্যে পড়ে থাকে, তাহলে সেখানে কেউ বেড়া দিয়ে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করতে পারেন না।’

দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় দ্রুত জমির সীমানা নির্ধারণ, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।