সুন্দরবনে ট্যুরিজম কেন্দ্রে ঢুকে পড়ল বাঘ, হুইসেল বাজিয়ে ফেরানো হলো বনে

মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বাগেরহাটের আলীবান্ধা ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে আবারও বাঘের দেখা মিলেছে। এবার ট্যুরিজম কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীর (নাইলনের বেড়া) ভেদ করে বাঘটি সরাসরি ঢুকে পড়ে। বাঘ দেখে ভয়ে বনরক্ষীরা ওয়াচ টাওয়ারে উঠে আশ্রয় নেন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্দা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. ফারুকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তাছাড়া এর আগে ২৪ জুলাই আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে আঙ্গিনায় একটি বাঘ এসে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান নিয়েছিলো।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্দা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. ফারুকুল ইসলাম জানান, গত বুধবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে নাইলনের ফেন্সিং বেড়া ভেদ করে একটি বাঘ হরিণের বেষ্টনির কাছে চলে আসে। বাঘ দেখে এসময় আমরা ওয়াচ টাওয়ারে উঠে আশ্রয় নিই। আমাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর রেঞ্জ অফিস থেকে অস্ত্রধারী বনরক্ষী ও ভিটিআরটির টিমের স্বেচ্ছাসেবকরা গিয়ে বাঘ তাড়াতে প্রথমে মাইকে বিকট শব্দে হুইসেল বাজায়। পরে ১০টি আতশবাজি (পটকা) ফোটানো হয়। পায়ের ছাপ দেখে বিকাল ৫টা নাগাদ বাঘটি চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বাঘ ঢোকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাঘটি ঢুকতে দেখেছেন বনরক্ষীরা। হয়তো বন্য শূকরে নাইলনের ফেন্সিং বেড়া কেটে ফেলায় সেখান থেকে ঢুকেছে বাঘটি। বাঘটি এসেই আবার বনে ফিরে গেছে। তারপরও নিশ্চিত হতে পটকা ফুটিয়ে ও হুইসেল বাজানোসহ সব ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে বাঘটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পায়ের ছাপ দেখে নিশ্চিত হয়েছি বাঘটি বনে ফিরে গেছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সুন্দরবনে আগের তুলনায় বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন হরহামেশা সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে বাঘের চলাফেরা ও খালে বাঘ সাঁতরাতে দেখছেন জেলে ও পর্যটকেরা। আমি নিজেও অতি সম্প্রতি মরাপশুর বনাঞ্চলে বাঘ হেঁটে যেতে দেখেছি। এমনকি গাছে বাঘের পায়ের আঁচড় কাটতেও দেখেছি।