মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কিশোর থেকে বৃদ্ধ সবার জন্যই তিনি অনুসরণীয় আদর্শ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একমাত্র পথ হিসেবে মহানবী (সা.)-এর পদাঙ্ক অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেছেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার দেখানো পথ অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করতে হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘রোড টু সিরাহ’ জাতীয় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার পথ একটিই। আর সেটি হলো নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নকশা কদম অনুসরণ করা। তার জীবন ও আদর্শকে পায়ে পায়ে এবং অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করেই চলতে হবে।
মহানবী (সা.)-এর শৈশবের কথা তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, একজন শিশুকে যদি প্রশ্ন করা হয় বা একজন শিশু যদি প্রশ্ন করে যে আমি কাকে অনুসরণ করব? তার উত্তর হচ্ছে মা আমিনা এবং হালিমাতুস সাদিয়া রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহার শিশুপুত্র মোহাম্মদ হচ্ছে তোমার অনুসরণীয়।
তিনি বলেন, শৈশবে যখন তিনি ছিলেন অবুঝ, তখনও দুধ ভাইয়ের অধিকার নষ্ট করেননি। কারও প্রতি কষ্টদায়ক আচরণ করেননি। তার মুখ থেকে কোনো অশ্লীল কথা বের হয়নি এবং তিনি কারও অধিকার নষ্ট করেননি।
কিশোর বয়সের উদাহরণ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এরপরে যদি একজন কিশোরকে জিজ্ঞেস করা হয় বা কিশোর যদি জিজ্ঞেস করে যে আমি কাকে অনুসরণ করব? তাহলে মক্কার সেই শান্ত, সৌম, বুদ্ধিদীপ্ত, দায়িত্বশীল কিশোর মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের কথাটা এখানে এসে যাবে।
তিনি বলেন, কাবাঘর মেরামতের পর পাথর, কালো পাথর, হাজরে আসওয়াদ এটা প্রতিস্থাপন নিয়ে যে সংকট দেখা দিয়েছিল, সেখানে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আশঙ্কা চারটা কবিলার মধ্যে দেখা দিয়েছিল। তার নিখুঁত সমাধান ইনসাফপূর্ণ সমাধান দিয়েছিলেন সেই কিশোর মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা এভাবেই তাকে শৈশব, কৈশোর, যৌবন এই সবগুলাতে নিয়ামত পড়া আখলাক দিয়ে তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছিলেন।
মহানবী (সা.)-এর জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি জন্মগতভাবেই তিনি এতিম ছিলেন। জন্মের আগেই পিতা তিনি তার মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেছিলেন আর ছয় বছরের মাথায় মাকেও হারিয়েছিলেন। আট বছরের মাথায় দাদাকে হারিয়েছিলেন। এভাবে জীবনে একটার পর একটা ধাক্কা তার জীবনে এসেছিল।
তিনি আরও বলেন, একজন ব্যবসায়ী, একজন দার্শনিক, একজন চিন্তাবিদ, একজন সমন্বয়ক, একজন প্রধান বিচারপতি যে ক্ষেত্রেই জীবনের প্রশ্ন আসবে যে আমি কাকে অনুসরণ করব? নিঃসন্দেহে তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম।
হেদায়েতের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, হেদায়েত মানে হচ্ছে সঠিক পথ প্রদর্শন। নিজের জন্য দোয়া করে না। রাগ করে আরেকজনের জন্য দোয়া করে। এবং এত বড় একটি দোয়াকে মানুষ বদদোয়া মনে করে। কী আশ্চর্য ব্যাপার। হেদায়েত কামনা হচ্ছে সঠিক পথটা পাওয়ার দোয়া আল্লাহ তালার দরবারে।