নাহিদের ফেরার অপেক্ষা আরও বাড়ছে

বোলিংয়ে ফিরেছেন বাংলাদেশের উদীয়মান গতিতারকা নাহিদ রানা। কিন্তু মাঠে ফিরতে আরও অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাকে। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে এই পেসারকে খেলানোর ঝুঁকি নিতে চাইছে না বিসিবি। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তাই ধীরে এগোনোর সিদ্ধান্তই নিতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।

জিম্বাবুয়ে সফরেই থমকে গিয়েছিল নাহিদের পথচলা। গত ১৭ জুলাই দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাঁ পাশের সাইডে চোট পান তিনি পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইন। সেই চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজে খেলতে পারেননি তিনি। চোটের ধরন অনুযায়ী শুরুতেই বলা হয়েছিল, সেরে উঠতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। বোলিংয়ের ভারও ধীরে ধীরে বাড়াতে হবে। 

অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে ছিটকে যাওয়ার পরও নাহিদের পুনর্বাসন নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করেনি বিসিবি। জুলাইয়ের শেষ দিকে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানো হয়েছিল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে। সেখানে সাইড স্ট্রেইনের পাশাপাশি তার পুরোনো শিনবোনের সমস্যাটিও পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসা-পরামর্শ নিয়ে দেশে ফেরার পর শুরু হয় মূল পুনর্বাসন।

চোটের পর প্রায় ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে নাহিদকে। এরপর ৩১ আগস্ট আবার হাতে বল ওঠে তার। মিরপুর একাডেমি মাঠে জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের ও ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খানের তত্ত্বাবধানে বোলিং করেন তিনি। তবে স্বাভাবিক রান-আপে নয়। ছোট রান-আপে বল করেন নাহিদ। 

আগামী কয়েক দিনও এইভাবেই বোলিংয়ের ধাপ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। বোলিংয়ে ফেরাটা অবশ্যই স্বস্তির খবর। কিন্তু বোলিং শুরু করা আর ম্যাচ খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়া এক বিষয় নয়। নাহিদের ক্ষেত্রে সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাকে আগে ধীরে ধীরে পূর্ণ তীব্রতায় বোলিংয়ে ফিরতে হবে। এরপর বাড়াতে হবে ওয়ার্কলোড। ম্যাচের চাপ নেওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছানোর পরই আসবে চূড়ান্ত ছাড়পত্র। বিসিবির মেডিক্যাল পরিকল্পনাতেও এই ধাপে ধাপে ফেরার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।

সেই কারণেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে নাহিদকে খেলানোর বিষয়ে সতর্ক বাংলাদেশ। আগামী অক্টোবরের সিরিজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়ার কথা। সূচি অনুযায়ী ৯ থেকে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের এই সিরিজ হওয়ার কথা রয়েছে টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজও রয়েছে। ওয়ানডে সূচিকে ত্রিদেশীয় সিরিজে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা ও আলোচনায় আছে।