ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে নারায়ণগঞ্জের কর্মস্থলে বাসে ফিরছিলেন সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। বাসে চড়ার পর পরই যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের আচরণে তার সন্দেহ হয়।
কিছুক্ষণ পরই জাহাঙ্গীর বুঝতে পারেন, তিনি আসলে যাত্রীবেশী ডাকাত দলের বাসে উঠে পড়েছেন। কিন্তু তখন আর তার কিছু করার ছিল না। মারধরের শিকার হয়ে বিকাশে মুক্তিপণ দিয়ে ছয় ঘণ্টা পর জীবন নিয়ে কোনোরকমে বেঁচে ফিরেছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহের দিঘারকান্দা এলাকায় চেক পোস্ট বসিয়ে একটি বাসে অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করে র্যাব-১৪।
র্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বাসটির গতিবিধি অনুসরণ করে জাবেল ইকবাল বাদল ওরফে ‘বিহারি বাদল’ নামে চক্রের মূলহোতাকে আটক করা হয়েছে। পরে বাসের ভেতর থেকে জিম্মি জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধারসহ দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়। চক্রের বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
জাবেল ইকবাল বাদল ময়মনসিংহ শহরের পাটগুদাম এলাকার বাসিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে ১০টির বেশি ডাকাতির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির ইউনিট ব্যবস্থাপক। ভালুকায় একটি কাজ শেষে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জে ফেরার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তখন তার সামনে একটি বাস থামে। তিনি বাসটিতে ওঠেন।
কিছুদূর যাওয়ার পর জাহাঙ্গীর বুঝতে পারেন, বাসের দুই-তিনজন যাত্রী ছাড়া প্রায় সবাই ডাকাত চক্রের সদস্য। তখন কয়েক যাত্রীর কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে তাদের নির্জন রাস্তায় নামিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তাকে আটকে রাখে।
জাহাঙ্গীর বলেন, ‘বাসের ভেতরে আমাকে মারধর করে পাঁচ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ছোট ভাইসহ কয়েকজনের কাছ থেকে বিকাশে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এনে দিই। কিন্তু এরপরও তারা আরও টাকা দাবি করতে থাকে।’
তার ভাষ্য, একপর্যায়ে বাসটি আব্দুল্লাহপুর ঘুরে আবার ময়মনসিংহের দিকে রওনা হয়। তখন তার আশঙ্কা হয়, তার বোধহয় আরও বড় ধরনের ক্ষতি করা হতে পারে। বিষয়টি তিনি স্বজনদের জানান। পরে তার ছোট ভাই শাহারুল র্যাবকে খবর দেন।
র্যাব-১৪ এর কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান বলেন, বাসটি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল চক্রটি। খবর পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বাসটির গতিবিধি অনুসরণ করে ত্রিশাল ও দিঘারকান্দা এলাকায় চেক পোস্ট বসানো হয়।
তিনি বলেন, রাত ১২টার দিকে দিঘারকান্দা এলাকায় বাসটি থামানোর চেষ্টা করলে চক্রের সদস্যরা দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ‘বিহারি বাদল’কে আটক করা হয়। পরে বাসের ভেতর থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করা হয়।