মৃত্যুর ১৫২ দিন পর অবশেষে নিজ দেশ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন আফগান নাগরিক হাসমত মোহাম্মাদী। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা শেষে বাংলাদেশ থেকে তার মরদেহ কাবুলে পৌঁছালে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
গত ১৩ এপ্রিল ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে হাসমতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও বিজিবি। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পরদিন ১৪ এপ্রিল আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থানে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা হয়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মরদেহের ছবি দেখে আফগানিস্তানে থাকা স্বজনেরা হাসমতের পরিচয় শনাক্ত করেন। ডিএনএ পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে উদ্যোগ নেয় পরিবার।
নিহত হাসমতের ভাই ইমাল মোহাম্মাদী আফগানিস্তান থেকে বাংলাদেশে এসে দীর্ঘদিন ধরে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অনুমোদনের পর গত ১ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থান থেকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হাসমতের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে মরদেহ ঢাকায় নেওয়া হয়।
প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও এয়ার কার্গো সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে মরদেহটি কাবুলে পাঠানো হয়। ১১ সেপ্টেম্বর স্বজনদের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে বাবার কবরের পাশে হাসমতকে দাফন করা হয়।
কাবুলে পরিবারের কাছে মরদেহ পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। ১৫২ দিনের অপেক্ষার পর ভাইকে ফিরে পাওয়ার এই মুহূর্তটি পরিবারের জন্য ছিল গভীর আবেগের।
ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে সহযোগিতা করায় বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংবাদ প্রকাশের জন্য দৈনিক ইত্তেফাক, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক এবং তার আইনজীবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ইমাল মোহাম্মাদী।
তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ এই জটিল প্রক্রিয়ায় অনেকের সহযোগিতা ছাড়া আমার ভাইকে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতো না। যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, বিশেষ করে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি আমার পরিবার কৃতজ্ঞ। দৈনিক ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। সবার সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ভাইকে বাবার কবরের পাশে দাফন করতে পেরেছি।’
উল্লেখ্য, হাসমতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জটিলতা নিয়ে গত ২৪ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে ‘ভাইয়ের লাশ নিতে আফগানিস্তান থেকে এসে ৫০ দিন ধরে ঘুরছেন ইমাল’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর ১ সেপ্টেম্বর তার মরদেহ ঝিনাইদহ পৌর কেন্দ্রীয় গোরস্থান থেকে উত্তোলন করা হয়। দীর্ঘ ১৫২ দিনের অপেক্ষার পর কাবুলে বাবার কবরের পাশে দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো হাসমতের মরদেহ দেশে ফেরানোর দীর্ঘ প্রক্রিয়া।