শ্বেতপদ্মের শুভ্রতায় সেজেছে নাগেশ্বরীর কেশরিয়া বিল

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে শ্বেতপদ্মের অপরূপ সৌন্দর্যে সেজেছে কেশরিয়া বিল। নিখাদ শুভ্রতা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে জলাশয়টি এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে মনোরম এই দৃশ্য দেখতে বিলের ধারে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনিরপাট বাজারসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে কেশরিয়া বিলের অবস্থান। গত কয়েক বছর ধরে এখানে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাচ্ছে বহুবর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ শ্বেতপদ্ম। গ্রীষ্মকাল থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়, যা শরৎকাল পর্যন্ত দেখা যায়। শরতের আবহে এর সমারোহ আরও বেড়ে যায়।

শ্বেতপদ্মের সৌন্দর্যের কারণে কেশরিয়া বিল ধীরে ধীরে আলাদা পরিচিতি পাচ্ছে। বরিশালের হিম নীড় চত্বরের পুকুর, বিআইডব্লিউটিএ, দুর্গাসাগর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার পদ্মবিলের পাশাপাশি শ্বেতপদ্মের জলাশয় হিসেবে কেশরিয়াও পরিচিত হয়ে উঠছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জলাশয়ের পানিতে ভেসে আছে বড় বড় গোলাকার সবুজ পাতা। পানির ওপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ডাঁটার মাথায় ফুটে আছে একেকটি শ্বেতপদ্ম। পুরো বিলজুড়ে ফুটে আছে হাজার হাজার পদ্মফুল। সবুজ পাতা আর শুভ্র ফুলের সমন্বয়ে বিলটি যেন প্রকৃতির এক অনন্য ক্যানভাস।

ভোরের দৃশ্য আরও মনোমুগ্ধকর। ভোরের আলো ফুটতেই কুয়াশা আর শিশিরবিন্দুতে পদ্মের পাপড়িগুলো ঝলমল করে ওঠে। বিলের শান্ত পানিতে হালকা বাতাস বইলে একসঙ্গে দুলতে থাকে অসংখ্য পদ্মফুল। নৌকায় করে বিলের গভীরে গেলে চারপাশের সবুজ পাতার মাঝে মাথা উঁচু করে থাকা শ্বেতপদ্মের সৌন্দর্য আরও কাছে থেকে উপভোগ করা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা শোভা ও সবিতা রায় জানান, কেশরিয়া বিল প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের এক অফুরন্ত ভাণ্ডার। শরৎকালে এখানে শ্বেতপদ্মের সমারোহ বেড়ে যায়। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ এসে এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করেন।

কলেজ শিক্ষক সঞ্জীব রায় বলেন, ‘শ্বেতপদ্ম কেবল একটি ফুল নয়, এটি পবিত্রতা, শুভ্রতা ও আধ্যাত্মিক সৌন্দর্যের প্রতীক। সনাতন ধর্মে শ্বেতপদ্ম অত্যন্ত পবিত্র হিসেবে গণ্য হয়। দেবী সরস্বতী ও লক্ষ্মীর আসন হিসেবেও এ ফুল ব্যবহৃত হয়। এটি জ্ঞান, পবিত্রতা ও আলোর প্রতীক।’

উন্নয়নকর্মী ফরিদুল জুলফিকার বলেন, ‘আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পদ্মবিল ও পদ্মফুল গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। বাস্তুসংস্থানের জন্যও এর গুরুত্ব রয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর ভূমিকা রয়েছে। পদ্মমধু সংগ্রহ, পদ্মবীজের ব্যবহার এবং একে ঘিরে স্থানীয় মানুষের জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রকৃতির এই অনবদ্য সৃষ্টি উপভোগের পাশাপাশি তা যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব, যাতে আগামী প্রজন্মও শ্বেতপদ্মের এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।’