মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা ক্রমাগত তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সাদ অনুসারীরা।
লিখিত বক্তব্যে সাদ অনুসারী তাবলিগের সাথি মো. শফিক বিন নাঈম জানান, সরকার অনতিবিলম্বে তাদের ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করুক। ইজতেমা টঙ্গীর মাঠেই করতে চান তারা। ইজতেমার তারিখ নিয়ে সারাবিশ্বের মুসলমানেরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। দ্রুত তারিখ ঘোষণা করা হলে বিদেশি মেহমানদের ভিসা ও টিকিটের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
মুচলেকা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. শফিক বিন নাঈম জানান, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠিতে ১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখ সাদ অনুসারীদের টঙ্গীর মাঠে ইজতেমা করার কথা বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী তারা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। পরে তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করে হঠাৎ একটি কাগজ ধরিয়ে দেওয়া হয়। মাঠ বুঝিয়ে নেওয়ার শেষ মুহূর্তে কোনো সাথির কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়নি। মুচলেকা দেওয়ার পুরো বিষয়টি মিথ্যা ও একধরনের হঠকারিতা।
২০১৮ থেকে ২০২৪ সালে টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে সংঘর্ষ ও নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে শফিক বিন নাঈম জানান, হামলার ঘটনায় তাদের দায়ী করা হচ্ছে। অথচ এসব ঘটনায় মামলা ও তদন্তও চলছে।
বিদেশি মেহমানদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মো. শফিক বিন নাঈম বলেন, প্রতিবছর তাবলিগের উদ্দেশ্যে ২০ থেকে ৩০ হাজার বিদেশি মেহমান বাংলাদেশে আসেন। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়। টঙ্গীর ইজতেমা বাংলাদেশের পরিচিতির সঙ্গেও জড়িত। তাই ইজতেমার মাধ্যমে বাংলাদেশের যে সুনাম তৈরি হয়েছে, তা অক্ষুণ্ন রাখার কথা বলেছেন তাঁরা।
তাবলিগের বিরোধের পর জুলুমের শিকার হচ্ছেন অভিযোগ করে শফিক বিন নাঈম জানান, দুই পক্ষ হওয়ার পর থেকেই তারা সব সময় মজলুম হয়েছেন। তারা ন্যায়বিচার ও সমতা চান। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে অন্য নাগরিকেরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পান, তারাও তা চান। কোনো বৈষম্য চান না।
গতকাল রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) আয়োজিত এক সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে তওবা করার অনুরোধ জানান। পবিত্র কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা এবং নবী ও সাহাবিদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে তিনি এ অনুরোধ করেন।
এসময় ইসলাম, নবুয়ত ও শরিয়তের বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে সাদ কান্ধলভী বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা নুরুল ইসলাম, মুফতি ফয়েজুর রহমান, মুফতি বোরহান, অধ্যাপক মনজুরুল হক, অধ্যাপক নাজিমুদ্দিন ভূঁইয়া, তারেক মাহমুদ, অধ্যাপক আবদুল হান্নান ও সাঈদ আহমেদসহ সাদ অনুসারীদের মুরব্বিরা উপস্থিত ছিলেন।