চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পাচানি গ্রামের বৌ বাজার এলাকায় একটি জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে এবং মালিকানা–সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে উভয়পক্ষকে থানায় হাজির হতে বলেছে।
ফয়েজ আহমেদ সালেকিন ও মেহেদী হাসান নামে দুজন ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, প্রায় ১৬ শতাংশ জমির মধ্যে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করছেন মোহাম্মদ উল্লাহ জগলুর নেতৃত্বে মো. মফিজুল হক বাবু, মো. শরীফ উল্লাহ সরকারসহ কয়েকজন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ সেপ্টেম্বর ওই জমিতে দোকান নির্মাণের চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা।
ওই জমির মালিকানা দাবি করে সালেকিন ও মেহেদী আরও জানান, জমিটি দীর্ঘদিন খালি থাকায় সেখানে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনা করেন তারা। ঢাকায় বসবাস করায় জমিতে বালু ভরাটের দায়িত্ব স্থানীয়ভাবে জগলু ও বালু ব্যবসায়ী মনসুরকে দেন।
তাদের দাবি, জমির জন্য প্রায় ৩৫ হাজার ঘনফুট বালুর প্রয়োজন থাকলেও প্রায় ৬৩ হাজার ঘনফুট বালুর হিসাব দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ নেন মনসুর। পরে ভরাট হওয়া জমিতে জগলু হঠাৎ ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মালিকানা দাবি করেন এবং বৈধ মালিকানার প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই সেখানে নির্মাণকাজ শুরু করেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জমিটি তাদের পরিবারের প্রায় ৩৫ বছরের অধিক সময়ের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি। জমির চারপাশে থাকা একাধিক দোকানের ভাড়াও প্রায় তিন দশক ধরে তারাই আদায় করে আসছেন।
অন্যদিকে স্থানীয়রা বলছেন, এই জমিকে দখলকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সালেকিন ও মেহেদীর অভিযোগ, পারিবারিক ও রক্তের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তাদের বৈধ মালিকানাধীন সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। থানার হস্তক্ষেপে গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মতলব উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে এস আই ময়নাল ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপক্ষের বক্তব্য শোনেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সে সময় জগলু, মনসুরসহ কয়েকজন নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। তবে প্রয়োজনীয় মালিকানার কাগজপত্র তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারায় পুলিশ নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
এসআই ময়নাল বলেন, ‘কাগজপত্রে সব প্রমাণ হবে। এজন্য দুই পক্ষকেই সময় দেওয়া হয়েছে, যেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে নির্ধারিত সময়ে থানায় উপস্থিত হতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শী বাবর আলী জানান, ‘বাজারের সবাই জানে এই জমির আসল মালিক সালেকিন এবং মেহেদী। ওরা ঢাকায় থাকে বিধায় ভিলেজ পলিটিক্স না বুঝে এই ফাঁদে পড়েছে। জগলু গ্যাং এভাবে আরও অনেককে বিপদে ফেলেছে। তবে আমরা ন্যায়ের পক্ষে আছি, থাকবো।’
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, জমির প্রকৃত মালিকানা নিয়ে কারও দাবি থাকলে তা আইনিভাবে প্রমাণের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কোনো পক্ষ যেন জোরপূর্বক জমি দখল কিংবা নির্মাণকাজের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে নেওয়ার সুযোগ না পায়।
তাদের ভাষ্য, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে আদালত বা সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এর নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। জোর করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া বা প্রভাব খাটিয়ে জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ উল্লাহ জগলু, মো. মফিজুল হক বাবু, মো. শরীফ উল্লাহ সরকারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পরে তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হওয়া যায়নি।
তবে বালু ব্যবসায়ী মনসুর বলেন, ‘সালেকিন, মেহেদী তাকে আমাকে কোনো টাকা দেয়নি। ওই জমিতে বালু ফেলার টাকা দিয়েছেন জগলু।’
পরে তাকে সালেকিন ও মেহেদীর সঙ্গে টাকা আদান-প্রদানের প্রমাণ দেখানো হলে বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে সটকে পড়ে তিনি