এক উপজেলায় দুই ঘণ্টার ব্যবধানে পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পুকুরের পানিতে ডুবে পৃথক দুটি ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে উপজেলার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া শিশুরা হলো, উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী পাড়া মন্নান সওদাগর বাড়ি এলাকার অটোরিকশাচালক মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. আজাহারী (৯), পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইছামতি আলীনগর আইয়ুব মৌলভীর বাড়ির জিয়াবুল হকের মেয়ে উম্মে মানহা (৭) এবং একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অটোরিকশাচালক মো. ফারুকের মেয়ে মোছাম্মৎ আলিফা আকতার (২)।

এর মধ্যে আজাহারী হেফজখানা ও উম্মে মানহা প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মানহার চাচাত বোন রিফা আকতার বলেন, আজাহারী রোববার তার খালার বিয়ে উপলক্ষে ইছামতি আলীনগর বেড়াতে যায়। সোমবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির উঠানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বেড়াতে আসা অন্যান্যদের সঙ্গে আজাহারী ও মানহা খেলছিল। এক পর্যায়ে তারা সবার অগোচরে উঠানের সামনে থাকা পুকুরে নেমে পানিতে ডুবে যায়। পরে আজাহারীর নানা মো. ইসহাক ওই পুকুরে গোসল করতে নেমে মানহাকে পানিতে ভেসে থাকতে দেখে পানি থেকে তুলে উপজেলার কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় আধা ঘণ্টা পর অনেক খোঁজাখুঁজি করে একই পুকুরের তলদেশ থেকে আজাহারীকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে মৃত আলিফার চাচা মো. তারেক হোসেন সওদাগর বলেন, আমার ভাতিজি সোমবার দুপুর ১২টার দিকে একটি পানির গ্লাস নিয়ে বাড়ির সামনে উঠানে খেলছিল। এক পর্যায়ে বাড়ির উঠানের সামনে থাকা পুকুরে তার হাতে থাকা গ্লাসটি পড়ে যায়। পরে আলিফা পুকুর থেকে গ্লাসটি তুলতে গেলে পানিতে ডুবে সে মারা যায়।

এ পৃথক দু’টি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়ন (ইউপি) পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার কামাল।