মহসিন নাকভি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। এছাড়া তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলেরও (এসিসি) সভাপতি। নাকভি ট্রফি তুলে দিলে এশিয়া কাপের ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল। এমনটা আগেই এসিসিকে জানিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।
গত রোববার (১৩ সেপ্টম্বর) নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসিসি সভাপতি মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেয়নি ভারতের মেয়েরা।
এ বিষয়ে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বিসিসিআই সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, ‘আমরা এসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে এসিসি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি, পুরুষ ক্রিকেট দলের ক্ষেত্রে যেটা করা হয়েছিল, একইভাবে ট্রফি দেওয়া হলে আমরা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেব না। তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরেনি, তাই আমাদের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না।’
ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসেও একই সুরে কথা বলেন সাইকিয়া। তিনি বলেন, ‘সবদিক বিবেচনায় আমরা সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় ভারতীয় দল ট্রফি বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না—সে কথা আমরা আগেই এসিসিকে জানিয়ে দিয়েছিলাম।’
এর আগে গত বছর ভারতের পুরুষ দল নাকভির কাছ থেকে ট্রফি ও মেডেল নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এখনও তারা ট্রফি হাতে পায়নি। এসিসির দপ্তরে রাখা আছে সেটি। সূর্যকুমার যাদবের দল সেদিন ট্রফি ছাড়াই মঞ্চে দাঁড়িয়ে উদযাপন করেছিল।
আগে থেকেই ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উত্তেজনাময়, যা আরও অবনতির দিকে যায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর। এরপর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করলে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে।
নাকভির কাছে থেকে ট্রফি না নেওয়া প্রসঙ্গে বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে সাইকিয়া বলেছিলেন, ‘পেহেলগামের ঘটনার পর আমাদের পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়। এরপর আমাদের নাগরিকদের কাছ থেকে চাপ ছিল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক রাখা উচিত নয়, তাদের সঙ্গে ক্রিকেটও খেলা উচিত নয়। কিন্তু আমাদের সরকারের নীতি হলো, বহুজাতিক টুর্নামেন্টে আমাদের প্রতিটি দেশের বিপক্ষেই খেলতে হবে। আমরা সেই নীতি অনুসরণ করছি। সে কারণেই বিসিসিআই প্রতিটি দলের বিপক্ষে খেলার জন্য দল পাঠায়।’
তবে বহুজাতিক টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা মানেই সবকিছু মেনে নেওয়া নয় বলে উল্লেখ করে সাইকিয়া। তিনি বলেন, ‘এর মানে এই নয় যে আমরা খেলব এবং আমাদের সামনে রাখা প্রতিটি শর্ত মেনে নেব। যে দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগে থেকেই খারাপ ছিল এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর তা আরও খারাপ হয়েছে, আমাদের অভিযান এখনো চলছে। তাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা (নাকভি) আমাদের দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। আমরা তার কাছ থেকে ট্রফি নিতে পারি না।’