ঢিল ছুড়ে মশার ওষুধ বাছাই, ২০ মিনিট পর নকডাউন পরীক্ষা

উড়ন্ত মশা নিধনে নতুন সরবরাহ পাওয়া কীটনাশক মাঠে ব্যবহারের আগে এর গুণগত মান ও কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গাবতলীতে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে সরবরাহ করা ‘ম্যালাথিয়ন’ ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করে খাঁচায় বন্দি মশার ওপর পরীক্ষামূলকভাবে তা প্রয়োগ করা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল মিললেও ল্যাব টেস্টসহ মোট তিন ধাপের বৈজ্ঞানিক যাচাই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই এই ওষুধ চূড়ান্তভাবে মাঠে প্রয়োগ করা হবে।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, গাবতলীর কাঁচাবাজার চত্বরে রাখা ড্রামগুলোর মধ্য থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নমুনা বাছাইয়ের জন্য কর্মকর্তারা ইটের টুকরা নিক্ষেপ করেন। যে ড্রামে গিয়ে ঢিল আঘাত হানে, সেখান থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং ডিএনসিসির কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনটি পৃথক ড্রাম থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ফগার মেশিনে ভরা হয়।

এরপর প্রতিটি বাক্সে ৫০টি করে কিউলেক্স মশা থাকা মোট নয়টি জালের খাঁচায় চার ফুট দূর থেকে স্বাভাবিক নিয়মে ধোঁয়া প্রয়োগ করা হয়। ওষুধ দেওয়ার ২০ মিনিট পর পরিচালিত ‘নকডাউন’ পরীক্ষায় দেখা যায়, আটটি বাক্সের সব মশাই নিস্তেজ হয়ে নিচে পড়ে রয়েছে এবং একটি বাক্সে কেবল দুটি মশা ওড়াউড়ি করছিল।

তবে ২০ মিনিটের এই পরীক্ষাই চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কীটনাশকের প্রভাবে মশার প্রকৃত মৃত্যুর হার বা মর্টালিটি রেট নিশ্চিত হতে ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। এ জন্য নমুনা প্রয়োগ করা মশার খাঁচাগুলোতে গ্লুকোজমিশ্রিত খাবার দিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় না মরলে মশাগুলো খাবার খেয়ে স্বাভাবিক হতে পারে।

একই সঙ্গে সাধারণ পরিবেশে মশার স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল তুলনা করার সুবিধার্থে কীটনাশকমুক্ত আরও তিনটি পৃথক নিয়ন্ত্রণ খাঁচায় মশা রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এই পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ করা হবে।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ের পরীক্ষার পর সংগৃহীত একটি নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হবে গবেষণাগারে বায়ো-ইফিক্যাসি পরীক্ষার জন্য। অন্য একটি নমুনা যাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ে, যেখানে ওষুধের রাসায়নিক গঠন ও সক্রিয় উপাদানের সঠিক পরিমাণ যাচাই করা হবে। এই তিন স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই ওষুধটি ব্যবহারের ছাড়পত্র দেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকার মশাগুলো আগে থেকেই কীটনাশকের সংস্পর্শে থাকতে পারে—এমন ঝুঁকি এড়াতে পরীক্ষার মশাগুলো লার্ভা অবস্থায় রাজধানীর বাইরে থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।

ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান ভান্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, মশক নিধনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মোট ছয় লাখ লিটার ম্যালাথিয়ন সরবরাহের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ২০০ লিটার ধারণক্ষমতার এক হাজারটি ড্রামে করে দুই লাখ লিটার ওষুধ ডিএনসিসির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যার মান যাচাইয়ের কাজ বর্তমানে চলছে।