দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণী চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে সফলতার সঙ্গে অভিনয় করে আসা জনপ্রিয় অভিনেত্রী রামায়া কৃষ্ণান—যিনি বিশ্বজুড়ে ‘বাহুবলি’র রাজমাতা শিবগামী দেবী হিসেবে সমাদৃত—তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমীকরণের জন্যও প্রায়ই আলোচনায় থাকেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ-১৮ এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে পরিচালক কে এস রবিকুমারের সঙ্গে প্রথম সিনেমায় কাজ করার সুবাদে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। বিবাহিত ওই পরিচালকের সঙ্গে অভিনেত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলে ওপেন সিক্রেট ছিল এবং কে এসের বেশ কয়েকটি সিনেমায় কাজ করার সূত্রে সেই সম্পর্ক আরও গভীর হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সম্পর্কের একপর্যায়ে রামায়া কৃষ্ণান অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে পরিচালক কে এস রবিকুমারের স্ত্রী বিষয়টি জানতে পেরে অভিনেত্রীকে হুমকি দেন। পরিস্থিতির চাপে পড়ে পরিচালক সেই সন্তানের পিতৃপরিচয় ও জন্ম দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে একপর্যায়ে গর্ভপাতের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন রামায়া এবং শোনা যায়, সেটির জন্য তিনি পরিচালকের কাছ থেকে ৭৫ লক্ষ রুপি দাবি করেছিলেন। যদিও গণমাধ্যমের সামনে এই প্রেম ও গর্ভপাতের গুঞ্জন বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন দুজন, তবুও দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে তাদের এই অতীত সম্পর্ক নিয়ে চর্চা থামেনি।
পরবর্তীতে সব বিতর্ক পেছনে ফেলে ২০০৩ সালে বিশিষ্ট পরিচালক কৃষ্ণা বামসির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রামায়া কৃষ্ণান। বর্তমানে স্বামী ও তাদের একমাত্র পুত্রসন্তান হৃত্বিক কৃষ্ণানকে নিয়ে সুখেই কাটছে এই অভিনেত্রীর সংসার। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে প্রায় ২৬০টি সিনেমায় অভিনয় করা এই তারকাকে সর্বশেষ রজনীকান্তের ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘জেলার’-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে।