পশ্চিমবঙ্গে ‘সালাম’ বিতর্কে মুসলিম পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি নিয়ে এবার ভিন্ন দাবি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’, ‘ইনশাআল্লাহ’ এবং ‘জাযাকাল্লাহ’-র মতো শব্দ ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বদলি করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ কর্মকর্তা (আইপিএস অফিসার) বুশরা বানোকে। রাজ্য সরকার অবশ্য বলেছে, এটি নিয়মিত বদলি এবং ‘জনস্বার্থে’ করা হয়েছে। তবে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। খবর বিবিসি, এনডিটিভির।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে তাকে ওই পদ থেকে বদলি করা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর জারি করা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদেশ অনুযায়ী, তাকে স্টেট আর্মড পুলিশের চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট পদে বদলি করা হয়।

বদলির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এটি ‘জনস্বার্থে’ করা হয়েছে। তবে বুশরা বানোর আকস্মিক বদলি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ভিডিওতে ইসলামী অভিবাদন ও কিছু ইসলামী শব্দবন্ধ ব্যবহারের আপত্তি জানিয়ে কয়েকটি হিন্দু সংগঠন প্রতিবাদ জানানোর পরই এই বদলি করা হয়।

বুশরা বানো সম্প্রতি একটি ভিডিওতে সিভিল সার্ভিসে তার যাত্রার কথা শেয়ার করেন। ভিডিওর শুরুতে তিনি দর্শকদের ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে অভিবাদন জানান। এরপর তিনি কীভাবে আইপিএস কর্মকর্তা হয়েছেন, পরীক্ষার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেনশিয়াল কোচিং একাডেমি কীভাবে তাকে সহায়তা করেছে, তা তুলে ধরেন।

উত্তরপ্রদেশের কান্নৌজের বাসিন্দা বুশরা বানো আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এরপর কয়েক বছর উপসাগরীয় অঞ্চলে কাজ করার পর সিভিল সার্ভিসে যোগ দেয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে ভারতে ফেরেন।

২০২১ সালে তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসে (আইপিএস) যোগ দেন।

আইপিএস কর্মকর্তা ভিডিওতে বলেন, ‘আমি এটি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি, যাতে অন্যরাও এর মাধ্যমে উপকৃত হতে পারেন।’ তিনি সংখ্যালঘু, নারী এবং এসসি/এসটি শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি কোচিং সেন্টারের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আরও শিক্ষার্থীদের এ ধরনের কেন্দ্রে ভর্তি হওয়ার আহ্বান জানাই। আমি নিশ্চিত, আরও শিক্ষার্থী এসব কোচিং সেন্টার থেকে উপকৃত হবে এবং ইনশাআল্লাহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের সেবা করতে পারবে।’

ডানপন্থী সংগঠনগুলোর পরিচালিত বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হয়। তার ইসলামী শব্দবন্ধ ও অভিবাদন ব্যবহারের ‘আপত্তি’ জানিয়ে তারা বলে, ‘ভারতীয় রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী একজন কর্মরত কর্মকর্তার প্রকাশ্য যোগাযোগে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।’

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে তার বদলির কারণ হিসেবে শুধু ‘জনস্বার্থ’ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই বিতর্কের পরপরই বদলি হওয়ায় বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং অভিযোগ করেছে, এর মধ্যে বৈষম্যের গন্ধ রয়েছে।

কংগ্রেসের সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি আইপিএস অ্যাসোসিয়েশনকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এক্স-এ লিখেছেন, ‘তার পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে রাজ্য সরকার পরের দিনই তাকে বদলি করে দিলো। মোদি জি, আপনি কেমন ভারত গড়ে তুলছেন?’

তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘বদলির সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার সরকারের রয়েছে। কিন্তু কেউ যদি অসংসদীয় বা অসাংবিধানিক কোনো কথা না বলে থাকেন এবং শুধু নিজের অভ্যাস ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস অনুযায়ী কথা বলে থাকেন, তার মুখ থেকে সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো মন্তব্য বা শব্দ বেরিয়ে এলে, তার জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী উত্তরপ্রদেশের পুলিশ কর্মকর্তা অনুজ চৌধুরীর সঙ্গেও তুলনা করেছেন। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় তাকে প্রায়ই তার ‘হিন্দু’ বিশ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।