কুমিরের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত একটি নদী বিতর্কিত একটি স্থান মূল্যায়নে সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পর, ২০৩২ সালের অলিম্পিকের রোয়িং প্রতিযোগিতার ভেন্যু হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। প্রায় ৫০০ লোনা পানির কুমিরের আবাসস্থল এ নদী।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
একটি স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন শেষে অস্ট্রেলিয়ার ফিটজরয় নদীকে ক্যানোয়িংয়ের উপযুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়। তবে মজার ব্যাপার হলো, এই মূল্যায়নে কুমিরের বিষয়টি মাথাতেই রাখা হয়নি! পর্যালোচনায় মূলত অলিম্পিকের সময় এবং তার আগের সময়ে আবহাওয়া, জলের স্তর ও বন্যার ঝুঁকি কতটা, তা দেখা হয়েছে। ২০৩২ ব্রিসবেন অলিম্পিক হবে জুলাই-আগস্টে।
গেমস ইনডিপেনডেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন অথরিটি জানিয়েছে, এই ফ্ল্যাটওয়াটার ফ্যাসিলিটি (যেখানে স্রোতের গতি কম) ইতোমধ্যেই বেশ জনপ্রিয়। এখানে নিয়মিত স্কুলপর্যায়ের প্রতিযোগিতা, স্থানীয় রেগাটা (একধরনের ইয়ট প্রতিযোগিতা) এবং জাতীয় দলের ক্যাম্প হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেহেতু এটি নিয়মিত রোয়িং ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই নদীতে কুমির দেখা গেলে নিরাপত্তার জন্য সুনির্দিষ্ট ‘কন্টিনজেন্সি প্ল্যান’ বা জরুরি ব্যবস্থা রাখা আছে। অ্যাথলেটদের নিরাপত্তার বিষয়ে অলিম্পিক কর্মকর্তাদের আগেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড রোয়িংয়ের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ-ক্রিস্তফ রোলাঁর মতে, রকহ্যাম্পটনের ফিটজরয় নদী অলিম্পিক-প্যারালিম্পিকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। রোঁলা বলেন, ‘বিস্তৃত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আমরা জানতে পেরেছি যে খেলা চলা অবস্থায় ফিটজরয় নদী স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবে। এটি অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক রোয়িংয়ের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
রকহ্যাম্পটনের ৫০০ কুমিরের নদীতে রোয়িং প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে কোনো অসুবিধা নেই মনে করেন প্যাডল ওয়ার্ল্ডওয়াইডের প্রেসিডেন্ট টমাস কোনিয়েটজকো। তিনি বলেন, ‘কারিগরি কাজের মান ও ব্যাপকতা ফিল্ড অব প্লে সম্পর্কে জরিপ করার পর আমরা স্বচ্ছ ধারণা পেয়েছি। এর ফলে আমরা এবং আমাদের ক্রীড়াবিদরা আত্মবিশ্বাসী যে এই কোর্স ক্যানো স্প্রিন্টের ক্রীড়াবিদদের জন্য স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পারবে।’
নদীতে বিশাল আকৃতির কুমিরের উপস্থিতি নিয়ে গত বছর অবশ্য বিতর্ক উড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্রিসবেন ২০৩২-এর সভাপতি অ্যান্ড্রু লিভারিস। তিনি সরাসরি বলেছিলেন, ‘সমুদ্রে তো হাঙরও থাকে, তাই বলে কি আমরা সার্ফিং বন্ধ রাখি? “পারব না” মানসিকতা বাদ দিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করুন।’
ভেন্যু চূড়ান্ত হওয়ার পর তিনি যোগ করেন, ‘এই স্বীকৃতি আমাদের পরিকল্পনাকে এক ধাপ এগিয়ে দিল।’
উল্লেখ্য, স্থানীয়ভাবে ‘সল্টি’ নামে পরিচিত এই নোনাপানির কুমিরগুলো স্বাদু ও লোনা, দুই ধরনের পানিতেই বিচরণ করতে পারে। দৈর্ঘ্যে এরা ছয় মিটারের বেশি বড় হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ভয়াল সব কুমিরকে পাশ কাটিয়ে অলিম্পিক গেমসে কীভাবে রোমাঞ্চ আর নিরাপত্তার মেলবন্ধন ঘটে!