আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে ভারতের বিহারে এক সেনাসদস্যকে গাড়িতে আটকে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বুধবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
নিহত সেনাসদস্যের নাম শত্রুঘ্ন যাদব। তিনি বিহারের কাইমুর জেলার রামগড় থানা এলাকার সাহুকা গ্রামের বাসিন্দা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে শত্রুঘ্নকে রামগড়ে ডেকে নেয়া হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, সেখানে তাকে একটি স্করপিও গাড়ির ভেতর আটকে রাখা হয় এবং গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে বারাণসীর ট্রমা সেন্টারে নেয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে লক্ষ্ণৌর একটি সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শত্রুঘ্ন যাদবের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সাহুকা গ্রামে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত বৃহস্পতিবার গ্রামবাসী ও স্বজনেরা রামগড় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা দুর্গা চকে সড়ক অবরোধ করলে প্রায় ৫ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা রামগড় থানা ঘেরাও করারও হুমকি দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রামগড়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে কাইমুরের এসপি শিখর চৌধুরী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোষীদের কঠোর শাস্তি ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসির (এসএইচও) ভূমিকা নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় মামলায় সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি চার পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।