সৌদি আরবের পক্ষে হামলার প্রস্তুতি নিয়েও ট্রাম্পের ইউ-টার্ন

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জরুরি সহায়তায় ইয়েমেনের হুথি ঘাঁটিতে হামলার চূড়ান্ত মুহূর্তে গিয়েও ট্রাম্প ইউ-টার্ন নিয়ে সামরিক অভিযান বাতিল করেছেন। মার্কিন যুদ্ধবিমানে বোমা লোড এবং লক্ষ্যবস্তু নিশ্চিত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন বলে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, লোহিত সাগরে হুথিদের বিস্তার ঠেকাতে সৌদি আরবের সমর্থনে আগে ইতস্তত করলেও বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সালমানের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প পেন্টাগনকে হামলার নির্দেশ দেন। তবে রোববারের মধ্যে সিদ্ধান্ত পুনরায় পরিবর্তন করে ট্রাম্প জানান, অন্তত সাময়িকভাবে হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো বিমান হামলা চালানো হবে না।

হোয়াইট হাউস থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি না হলেও এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে এবং তারা মিত্রদের রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের অনেকেই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে সৌদির লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তীব্র বিরোধিতা ও দ্বিধা প্রকাশ করেছেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা না করার বিষয়ে হুথিরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তাদের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। ১২ সেপ্টেম্বর আয়ারল্যান্ড সফরের সময়ও তিনি উল্লেখ করেছিলেন, হুথিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই এড়াতে যোগাযোগ রক্ষা করছে।

সৌদি রাজধানী রিয়াদে সপ্তাহের শেষ দিকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সৌদি সমর্থিত সরকারের হাত থেকে বহু এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার চরম চাপের মুহূর্তে এই ঘটনা ঘটল। পাশাপাশি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্প সিদ্ধান্তমূলক অবস্থানে রয়েছেন এবং ইরানের বিষয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন।

সূত্র: এনডিটিভি