নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার তিনগাঁও গ্রামের কুমিরের উপস্থিতি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। কুমিরটি স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়ির আঙিনায় ঢুকে পড়ার পর কুমিরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এরপর থেকে কুমিরটি উধাও হয়েছে গেছে। এ অবস্থায় পুকুরে না নামাসহ কুমিরটির কাছাকাছি না যেতে স্থানীয়দের সতর্ক করেছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি কুমিরটি একটি বাড়ির আঙিনায় উঁকি দেয়। এরপর সেটির উপস্থিতির কথা জানাজানি হয়। সর্বশেষ কুমিরটির দেখা মেলে একটি পুকুরে। কুমিরটি প্রথমে যে পুকুরে দেখা গিয়েছিল, সেখান থেকে স্থান পরিবর্তন করে পাশের আরেকটি পুকুরে চলে গেছে।
বন্দর উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভেটেরিনারি সার্জন ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পাশাপাশি পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করছে। বিষয়টি বন বিভাগ ও ঢাকা থেকে আসা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলকেও জানানো হয়েছে।
এদিকে গত রোববার ঢাকা থেকে আসা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দল দিনভর কুমিরটি উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে সেটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে রাতে কুমিরটি আগের অবস্থান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অন্য একটি স্থানে চলে গেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার আবারও কুমিরটি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
সোমবার দুপুরে দিকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কুমিরটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বনবিভাগ।
বনবিভাগের বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিরটিকে ‘মহাবিপন্ন মিঠাপানির কুমির’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি কুমিরটিকে হত্যা বা আঘাত না করে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
আব্দুল্লাহ আস সাদিক জানান, গত রোববার সারাদিন বন বিভাগের পক্ষ থেকে কুমিরটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও সেটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাতে ঢাকায় ফেরার পর তারা জানতে পারেন, কুমিরটি ওই পুকুর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অন্যত্র চলে গেছে। তিনি কুমিরটিকে মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় বলেও উল্লেখ করেছেন।
ইউএনও শিবানি সরকার বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনোভাবেই পুকুরে না নামতে এবং পুকুরপাড়ে না যেতে বলা হয়েছে। কুমির দেখতে পেলে কাছে গিয়ে ছবি বা ভিডিও করা, নিজে ধরার বা তাড়ানোর চেষ্টা এবং আঘাত করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশু ও গবাদিপশুকে পুকুরের আশপাশ থেকে দূরে রাখা এবং কুমির দেখতে ভিড় না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। কুমিরটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত বন্দর উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল আবেদীন অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছে প্রশাসন।