জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং দেশবাসীকে রক্ষায় সরকারকে সংস্কারের পথে হাঁটার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে তিনি এই মন্তব্য করেন। বর্তমান সরকারের আমলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চরম ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সংকট থাকার বিষয়টি অস্বীকার করার উপায় নেই, তবে সেই সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করার সক্ষমতা বর্তমান সরকারের নেই। জ্বালানি খাতের সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, সঠিক উপায়ে সংস্কার বাস্তবায়ন করা হলে অতীতের মতো কেউ অযোগ্য হয়ে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারত না।
সরকারের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি আমলের দুর্নীতির চিত্র যেভাবে বিশ্ববাসীর সামনে আসত, বর্তমান সরকারও নিজেদের একই কায়দায় সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থাপন করছে। সরকারের সমালোচনা করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রেপ্তারের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে নাসীরুদ্দীন বলেন, জনগণের মুখোমুখি হতে না পেরে যেভাবে শেখ হাসিনাকে বিদায় নিতে হয়েছে, নতুন কোনো সিন্ডিকেটের পৃষ্ঠপোষকতার মধ্য দিয়েও শেষ রক্ষা হবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘শেখ হাসিনার রিপ্লেসমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, যেই অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনার পতন হয়েছে, একই অপরাধে অভিযুক্ত হলে বর্তমান সরকার বা প্রধান কোন বৈধতার বলে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে। সংস্কারের পথে না হেঁটে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়িয়ে সরকার সাধারণ মানুষের পেটে লাথি মেরেছে এবং এর মাধ্যমে সরকারের নৈতিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ জোগাড়ের অজুহাতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। উবারচালক, পাঠাওচালক এবং পরিবহন খাতের ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তারা রাজপথে নেমেছেন বলে জানান। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ব্যর্থ এই সরকারের সামনে এক দফা দাবি মানা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। জনগণ তাদের রাস্তায় ধাওয়া করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
রাত আটটার দিকে বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে পরীবাগে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার, জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক ঋআজ মোর্শেদসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এই বিক্ষোভে অংশ নেন।