ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিমান হামলায় নিহত ৬

ইয়েমেনের লোহিত সাগর তীরবর্তী কৌশলগত বন্দর নগরী মোকায় সৌদি জোটের বিমান হামলায় দুই শিশু ও এক নারীসহ অন্তত ছয়জন সাধারণ মানুষ নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এএফপির বরাতে হুথি সমর্থিত সংবাদ সংস্থা সাবা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় উত্তর-পশ্চিমের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী ইরান সমর্থিত হুথিরা সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে হটিয়ে মোকা বন্দরসহ পুরো লোহিত সাগর উপকূল নিজেদের দখলে নিতে এক ঝটিকা অভিযান শুরু করে। এর পরই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার তাদের ভূখণ্ড রক্ষায় জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চালায়।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ করে সামরিক সহায়তার অনুরোধ জানান। 

আলিমি কার্যালয়ের সূত্রের বরাতে এএফপি জানায়, ট্রাম্প সংহতি প্রকাশ করলেও সরাসরি সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেননি। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে।

লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ উপকূল এবং পূর্বে হরমুজ প্রণালির মতো জ্বালানি পরিবহনের মূল জলপথগুলোতে হুথিদের এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে এবং এতে হুথি ও হিজবুল্লাহ সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ে।

২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর থেকে ইয়েমেনে যে সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, ২০২২ সাল থেকে তা অনেকটাই শান্ত থাকলেও চলতি বছরের জুলাই থেকে তা পুনরায় পূর্ণমাত্রায় শুরু হয়। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে হস্তক্ষেপ করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি