চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়াজুড়ে অভিযান চালিয়ে ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। এ সময় সারাদেশে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে কুয়ালালামপুরের একটি আবাসিক এলাকায় সমন্বিত অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে লোকমান এফেন্দি জানান, ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬০ দিনে সারাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৩৭টি করে অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
তিনি জানান, আটক হওয়া ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি জনকে অভিবাসন বিভাগের নিজস্ব অভিযানে আটক করা হয়। বাকি ২২ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে দেশের বিভিন্ন প্রবেশপথে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় আটক করা হয়েছে।
অভিযানে মূলত তিনটি প্রধান অপরাধ শনাক্ত করা হয়েছে—বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া বসবাস, নির্ধারিত ভিসার মেয়াদের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান এবং ওয়ার্ক পারমিটের শর্ত ভেঙে ভিন্ন খাতে কাজ করা।
লোকমান এফেন্দি সতর্ক করে বলেন, এই অভিযান কেবল অবৈধ কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; যেসব নিয়োগকর্তা অবৈধ জেনেও তাঁদের কাজে নিচ্ছেন কিংবা যেসব বাড়ির মালিক তাঁদের কাছে বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাড়া দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১ হাজার ৭২০ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ছয়টি।
সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে অভিবাসন বিভাগের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, অবৈধ অভিবাসী বা কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন। বরং ছবি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ অবিলম্বে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি, যাতে সুশৃঙ্খলভাবে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যায়।