পরীক্ষা যখন গুচ্ছ পদ্ধতিতে

প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে দুর্ভোগে

পড়তে হয় দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে। এই দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষিপ্রধান ৭টি বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিতভাবে গুচ্ছ পদ্ধতিতে

ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লিখেছেন আবু হানিফ

n বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

উচ্চতর কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। ‘পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ১৯৬১’-এর প্রেক্ষিতে ১৯৫৯ সালে জাতীয় শিক্ষা কমিশন এবং খাদ্য ও কৃষি কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৬১ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

n শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীনতম কৃষিশিক্ষা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান। অনন্য এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত। ১৯৩৮ সালে সাধারণ কৃষিশিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থাপিত এই ইনস্টিটিউটটি ২০০১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়।

 

n বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

গাজীপুর জেলার সালনায় অবস্থিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯৮ সালের নভেম্বর মাসে (১৯৯৮ সালের ১৬ নম্বর আইন) প্রাক্তন Institute of Postgraduate Studies in Agriculture পুনর্গঠন করে এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়।

 

n পটুয়াখালীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

পটুয়াখালীর প্রবেশপথে পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের লেবুখালীতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কয়ার থেকে পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে দুমকি উপজেলা সদরে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত। জেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তরে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় পটুয়াখালী কৃষি কলেজ। ৮ জুলাই, ২০০০ সালে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়।

 

n সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

সিলেট শহরের টিলাগড়ে অবস্থিত বাংলাদেশের একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এটি ২০০৬ সালে সিলেটে প্রতিষ্ঠিত হয়। যা পূর্বে সিলেট সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ নামে পরিচিত ছিল।

 

n চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়

এটি দেশের একমাত্র ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা আলাদা বিভাগের ওপর ডিগ্রি প্রদান করা হলেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষদের ওপর শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠিত: ৭ আগস্ট ২০০৬।

 

n খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে দৌলতপুরে কৃৃষি সম্প্রসারণ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অব্যবহূত ৫০ একর জমি এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ১২ একর জমির ওপর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। চলতি বছরই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কত আসন

ক. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ—১১০৮। খ. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর—৩৩০। গ. শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা—৭০০। ঘ. সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট—৪৩১। ঙ. পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী—৫৮৭।

চ. চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম—২৪৫। ছ. খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা—১৫০। সর্বমোট—৩৫৫১।

একনজরে তথ্যসমূহ

১.   আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা

        ২০১৬/২০১৭ সালে এসএসসি/সমমান এবং ২০১৮/২০১৯ সালে এইচএসসি/সমমানের পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী হতে হবে।

        এসএসসি/সমমান এবং এইচএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উভয়ক্ষেত্রে প্রতিটিতে ৪র্থ বিষয় ব্যতীত  জিপিএ-৩.০০ এবং সর্বমোট ন্যূনতম জিপিএ-৭.০০ থাকতে হবে।

        জিসিই ঙ লেভেল এবং অ লেভেল পাশকৃত প্রার্থীর ক্ষেত্রে ঙ লেভেল পরীক্ষায় পাঁচটি বিষয়ে ন্যূনতম ই গ্রেড এবং অ লেভেল পরীক্ষায় পদার্থ, রসায়ন, গণিত ও জীববিজ্ঞান বিষয়সমূহের প্রত্যেকটিতে ন্যূনতম ই গ্রেড থাকতে হবে। উল্লেখ্য,  ঙ লেভেল এবং অ লেভেলের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অ গ্রেডের জন্য ৫, ই গ্রেডের জন্য ৪, ঈ গ্রেডের জন্য ৩.৫, উ গ্রেডের জন্য ৩ পয়েন্ট গণ্য করা হবে।

        আবেদনকারীদের মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে মোট আসন সংখ্যার ১০ গুণ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।

২.   আবেদনের সময় ও আবেদন ফি

        ক. আবেদনের সময়সীয়া ১০ সেপ্টেম্ব্বর থেকে ১৫ অক্টোবর ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত।  

        খ. আবেদন ফি ১ হাজার টাকা মোবাইল ব্যাংকিং, বিকাশ, রকেট, শিওরক্যাশের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

৩.   লিখিত নির্বাচনী পরীক্ষা

        ক. ১০০ নম্বরের লিখিত নির্বাচনী পরীক্ষা আগামী ৩০ নভেম্ব্বর ২০১৯ তারিখ শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত বাকি ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।

        খ. উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সর্বশেষ পাঠ্যক্রম অনুসরণে ইংরেজি, জীববিদ্যা, পদার্থ, রসায়ন ও গণিত বিষয়ে গঈছ পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বাংলা ও ইংরেজিতে প্রণীত হবে।

        গ. প্রতিটি  ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কর্তন করা হবে।

৪.   মেধাস্কোর

        চতুর্থ বিষয় ব্যতীত এসএসসি/সমমান জিপিএকে আট দ্বারা এবং এইচএসসি/সমমান জিপিএকে ১২ দ্বারা গুণ করে যথাক্রমে ৪০ ও ৬০ নম্বরের হিসেবে মোট ১০০ এবং লিখিত পরীক্ষা থেকে ১০০ মিলে সর্বমোট ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাস্কোর করা হবে।

৫.   ভর্তি পরীক্ষার যাবতীয় তথ্যাবলি 

        গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে (www.admission-agri.org)  ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও ভর্তি সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যাবে।    উল্লেখ্য, কর্তৃপক্ষ যে কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অধিকার রাখে।