এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় মামলাটি এখন তদন্ত করবে ডিবি

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মামলার নথিপত্র শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলাটি গতকাল সোমবার রাতে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ডিবিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। মঙ্গলবার মামলার নথিপত্র ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, সোমবার গাজী নজরুল ইসলামের চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের এক দিনে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর আদালত থেকে গাজী নজরুল ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটি গাজী নজরুল ইসলামের। সেখানে তিনি তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের দরজা ভেঙে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর ওই রাতেই মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলার আরেক আসামি ওবায়দুর রহমান এখনো পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, গত জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার বড় মেয়ে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় গাজী নজরুল ও মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।

এজাহারে আরও বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও মাকছুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে পরিবারের সদস্যদের ফোনে জানিয়েছিলেন তিনি।

মামলার বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে গাজী নজরুল মোবাইল ফোনে তাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের সময় তার বিছানার ওপর একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায়। মামলায় বলা হয়েছে, রোববার বেলা তিনটা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে মরিয়ম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

মামলাটির তদন্ত এখন ডিবির কর্মকর্তারা করবেন।