১৮ আগস্ট ১৯৬১। বাংলাদেশের তৃতীয়তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ভেটেরিনারি ও কৃষি অনুষদ নামে দুইটি অনুষদ নিয়ে যাত্রা শুরু করে এ উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ছয়টি অনুষদে কৃষিবিষয়ক পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান আহরণ করার সুযোগ পাচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ২৯৬ জন শিক্ষার্থী। এবছর বিশ্ববিদ্যালয়টি তার প্রতিষ্ঠার ৫৮ বছর পার করে ৫৯ বছরে পা দিয়েছে। বিগত বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নানা পরিবর্তন ঘটেছে। দেশের প্রথম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা করা এ উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পথিকৃত বিদ্যাপীঠ বলে পরিগণিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৯ বছরে পদার্পণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে কী ভাবছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা? তাদের ভাবনা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন— হাবিবুর রনি
দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিশিক্ষার সর্ববৃহত্ বিদ্যাপীঠ বাকৃবিতে ভর্তির সুযোগ পেয়ে আমি সবসময় নিজেকে গর্বিত মনে করি। এত কিছু পাওয়ার মধ্যেও কিছু না পাওয়া থেকেই যায়। বিশেষ করে বলতে গেলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স কারিকুলাম নিয়মিত আপডেট করা, হলগুলোর ডাইনিং মনিটরিং ও মানসম্মত করা, পরিবহন সেবার মানবৃদ্ধিকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ নিয়মিত জব ফেয়ার ও সমাবর্তন আয়োজন সব শিক্ষার্থীর এখন প্রাণের দাবি। দাবিগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে বিশ্ববিদ্যালয়—বাকৃবির ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটাই প্রত্যাশা।
মো. রেজাউল হক রাশেদ
সাবেক শিক্ষার্থী, কৃষি অনুষদ
বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমি শখের বসে ফটোগ্রাফি নিয়ে কাজ শুরু করি। আমার ফটোগ্রাফির প্রধান বিষয় হলো প্রকৃতি। আর হাতের কাছে এমন সুন্দর ক্যাম্পাসের ছবি যেন আমার ফটোগ্রাফিকে প্রাণ দেয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি ভালোবাসার নাম। আর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি গর্বিত। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু দেশসেরা নয়, বিশ্বসেরা হিসেবে দেখতে চাই। বর্তমানে নবনিযুক্ত ভিসি স্যারের দক্ষ পরিচালনায় আমরা এক দিন ঐ স্থানে পৌঁছাব,
এটাই প্রত্যাশা করি।
সাদিক খান
কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ
প্রকৃতিকন্যাখ্যাত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে যতটুকু ভরপুর, উন্নত সুযোগ-সুবিধা সরবরাহের বেলায় তার চেয়ে যেন অনেক বেশি পিছিয়ে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, উন্নত চিকিত্সাসেবা প্রদান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবগুলোতে উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহ, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত, মুক্তবুদ্ধির অবাধ চর্চা, প্রাঞ্জল আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি, সুস্থ রাজনীতির বিকাশ এবং পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস আজ প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর সমাবর্তনের ব্যবস্থা করাটাও জরুরি।
আনিকা তাসনীম পূর্বা
শিক্ষার্থী, ৪র্থ বর্ষ, ভেটেরিনারি অনুষদ
অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার মান বাড়ানো এসবের কথা সবাই বলবে। আমিও বলছি। তবে একটা বিশেষ চাওয়া আছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে। বাকৃবি থেকে যখন এক জন শিক্ষার্থী বেরিয়ে আসবে তার বিদায়টা যেন সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে হয়। পড়ালেখার পাশাপাশি মানবিক গ্র্যাজুয়েট তৈরির জন্য সাহিত্য-সংস্কৃতির কোনো বিকল্প নেই। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ কার্যকর নেই তাই হল প্রভোস্টদের কাছে আমার আহ্বান, নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংস্কৃতির বিকাশে সহায়তা করেন। সংস্কৃতির বিকাশের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন।
কামরুল হাসান
শিক্ষার্থী, মাস্টার্স থিসিস সেমিস্টার, কৃষিতত্ত্ব বিভাগ