একজন মেয়ে দেশ থেকে রয়েছেন বহুদূরে। কাজের প্রয়োজনে দূরে থাকলেও মালয়েশিয়ায় বসেই উজ্জ্বল করেছেন বাংলাদেশের নাম। বলছিলাম বিশ্বের বুকে দেশের নাম উজ্জ্বল করা আমাদের দেশীয় এক কন্যার কথা। নাম তার মীর নাদিয়া নিভিন। এশিয়া ২১ ইয়ং লিডার-২০১৯ সম্মান পাওয়া ৩১ দেশের ৩৯ জন লিডারের মধ্যে তিনি একমাত্র বাংলাদেশি।
২০১৮ সালে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম এই সম্মানে ভূষিত হওয়ার পর এ বছরও একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন নাদিয়া নিভিন। ২০০৬ সালে এশিয়া সোসাইটি এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনের নেতৃত্ব ও উদ্যোক্তাদের একত্রিত করার এই আয়োজন শুরু করে। প্রতি বছর অনূর্ধ্ব ৪০ বছরের নবীন নেতাদের নিয়ে আয়োজন হয় করা সম্মেলন। এই বছর নবীন নেতাদের তালিকায় জায়গা পেয়েছে শিল্পী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, সামাজিক উদ্যোক্তা এবং এক্টিভিস্ট। নভেম্বর মাসের ১৫-১৭ তারিখ সান ফ্রান্সিসকো ও সিলিকন ভ্যালিতে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়া ২১ ইয়ং লিডার সম্মেলন-২০১৯। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়— ‘প্রযুক্তি ও মানবতা: ভবিষ্যতের পথনির্দেশ’। এই সম্মেলনে অংশ নেবেন বাংলাদেশের মেয়ে নাদিয়া নিভিন। তিনি ইউএনডিপিতে গভার্নেন্স ও ইনস্টিটিউশনাল রিফর্ম স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। ইউএনডিপিতে কাজ করছেন প্রায় ১২ বছর। তার জন্ম দেশের বাইরে হলেও শৈশব কেটেছে দেশে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে প্রথম এবং হার্ভার্ড থেকে জনপ্রশাসনে দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০০৭ সালে ইউএনডিপিতে যোগদানের আগে তিনি দেশে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা এবং সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়াতে রয়েছেন। তিনি সুশাসন প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। তার কাজের মধ্যে অন্যতম একটি ২০১৪ সালে আফগানিস্তানের নির্বাচনে কাজ করা। এছাড়া তিনি ইউএনডিপির হয়ে কাজ করেছেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, জার্মানিসহ অন্যান্য দেশে। ন্যায়বিচার, সরকার গঠন ও সুশাসন নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। তার এই নান্দনিক কাজের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন এশিয়া ২১ তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে। এটি তার কাছে সম্মানের একটি বিষয়। তিনি মনে করেন, আমাদের এখন ঘরে বসে থাকার সময় নয়। বিশ্বায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সময় এখন। এশিয়া সোসাইটির এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে একে অপরকে চেনা হবে, যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে সবাই উপকৃত। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান এগিয়ে যাওয়া নিয়েও রোমাঞ্চিত তিনি। অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ অন্য সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে— এমনই আশা তার। নারীদের এগিয়ে যাওয়ার উজ্জ্বল একটি দৃষ্টান্ত মনে করেন বাংলাদেশকে। তবে আমাদের এই এগিয়ে যাওয়ার স্রোতধারা যেন অব্যাহত থাকে, সেজন্য সবাইকে কাজ করতে হবে বলে মনে করেন নাদিয়া নিভিন। তিনি মনে করেন, যেখানেই থাকেন না কেন তার মন পড়ে থাকে বাংলাদেশে। হয়তো কাজের স্বার্থে তাকে দেশের বাইরে থাকতে হচ্ছে কিন্তু বাংলাদেশের যে কোনো প্রয়োজনে সর্বদা প্রস্তুত। দেশের ডাকে যে কোনো সময় ছুটে আসতে তার কোনো বাধা নেই। অবসর জীবনে ফিরে আসতে চান নিজের দেশে, কাজ করতে চান দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য।