দ্বিতীয় দিনের শাটডাউনে অচল চুয়েট, চলছে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মত আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে চুয়েট এর মূল ফটক বন্ধ রেখে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, চুয়েট এর উপাচার্য আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজকে আমরা গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছি। সকল শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবে। আমরা সকল ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছি। চুয়েটে সম্পূর্ণ শাটডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এর আগে, গতকাল সকালে শিক্ষার্থীরা শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। বিকেলে তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে মঙ্গলবার চুয়েটে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। প্রশাসনিক ভবনেও কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পারেন। একই প্রজ্ঞাপনে ২৭ জুলাই দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে হয়, উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা সর্বাত্মক শাটডাউন ও গণঅবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আগের উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রজ্ঞাপনে উপাচার্য পরিবর্তনের কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, তাদের সমস্যা শোনা এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করেছিলেন।

সোমবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এর আগে, গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম।

দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার রাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। হল থেকে বেরিয়ে এসে ছাত্রীরাও মিছিলে যোগ দেন। পরে রাত ১২টার দিকে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের মূল ফটকে তালা দিয়ে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এরমধ্যে মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসে আসেন অধ্যাপক আবু আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। তখন আন্দোলনকারীরা চুয়েট এর মূল ফটকের তালা খুলে দেন।

গতকাল রাতেও চুয়েট এর মূল ফটকে তালা লাগানো ছিল। সেখানে কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়ে ছিলেন।

চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ক্লাসে আসেনি। তাই কোনও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।’