পা দিয়ে আঘাত করতেই ভেঙে যাচ্ছে সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি নির্মাণাধীন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পা দিয়ে জোরে আঘাত করলেই স্ল্যাব ভেঙে পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই প্রকৌশলীর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণ করছে ‘মেসার্স হক ট্রেডার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

গত ২১ সেপ্টেম্বর এলজিইডির সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান ও ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা সেতুটির নির্মাণকাজ সরেজমিন পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে দেখা যায়, সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের এবং তা সম্পূর্ণ নকশা ও স্পেসিফিকেশন–বহির্ভূত।

দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ এবং উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামকে আলাদা চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে যে, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে না।

অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হক ট্রেডার্সকে দেওয়া চিঠিতে আগামী সাত দিনের মধ্যে নকশা অনুযায়ী ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধন করে উপজেলা প্রকৌশলীর মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ত্রুটি সংশোধন না করা পর্যন্ত এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না হলে সংশ্লিষ্ট কাজের কোনো বিল পরিশোধ করা যাবে না।

উল্লেখ্য, এর আগে গত রোববার রাতে টাঙ্গাইলের বাসাইলে আরেকটি নির্মাণাধীন সেতুতে স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ঠিকাদার ও তদারকি কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয় এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরপর দুটি সেতু নির্মাণে এমন অনিয়মের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।