বোয়িংয়ের নতুন চুক্তিতে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বাড়াতে চায় বিমান

বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সংস্থাটি বলছে, নতুন ১১টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে পরিচালন সক্ষমতা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বহর পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা হিসেবে দেশের মানুষ, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের চাহিদা পূরণে বিমানের নেটওয়ার্ক ও সক্ষমতা উন্নয়নে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তার ভাষ্য, আগামী বছরগুলোতে দেশের আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার জন্য একটি বিস্তৃত ও সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বোয়িংয়ের সঙ্গে এ চুক্তি করা হয়েছে।

নতুন চুক্তির আওতায় পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কেনা হবে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

বিমান জানিয়েছে, বহর পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তার আলোকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন চুক্তি সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে পরিচালন সক্ষমতা, পরিচালনাগত নমনীয়তা ও দক্ষতা বাড়াতেও এটি ভূমিকা রাখবে।

বিদ্যমান বোয়িং বহরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও নতুন উড়োজাহাজগুলো সহায়ক হবে বলে জানিয়েছে বিমান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক যোগাযোগের চাহিদা পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় বিমান পরিবহন সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি আধুনিক, দক্ষ ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই বহর গড়ে তুলতে চায় বিমান।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বোয়িংয়ের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের কার্যকর ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। নতুন চুক্তির মাধ্যমে উড়োজাহাজ সরবরাহের পাশাপাশি পরবর্তী সহায়তা ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আরও উন্মুক্ত হবে।

এর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও বোয়িংয়ের মধ্যে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার একটি সম্পূরক চুক্তি সই হয়। নতুন চুক্তিতে থাকা উড়োজাহাজের মধ্যে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।