সন্তানদের সামনে ধর্ষণের অভিযোগ, ২ ছেলেকে নিয়ে গাড়ির নিচে মায়ের ঝাঁপ

গাজীপুরের শ্রীপুরে দুই সন্তানের সামনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পান ব্যবসায়ী সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘটনা পর দুই ছেলেকে নিয়ে চলন্ত গাড়ির নিচে ঝাঁপিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ওই ভুক্তভোগী নারী। এতে তার বড় ছেলে (৪) আহত হয়। তবে ভাগ্যক্রমে রক্ষা পান মা বেঁচে যান মা ও ছোট সন্তানটি (২)।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে শ্রীপুর পৌরসভার মাওনা চৌরাস্তা এলাকার পানের আড়তসংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের বাসিন্দা।

অভিযুক্ত সোহরাব হোসেন (৩৫) নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা এবং মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় পান ব্যবসা করেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, প্রায় এক বছর আগে তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। বাসাভাড়া বকেয়া থাকায় গত মঙ্গলবার দুপুরে জৈনা বাজার এলাকার বাসা থেকে তাকে বের করে দেন বাড়ির মালিক। পরে দুই সন্তান নিয়ে তিনি মাওনা চৌরাস্তা এলাকার উড়ালসেতুর নিচে ফুটপাতে আশ্রয় নেন।

নারীর ভাষ্য, রাত সাড়ে ১০টার দিকে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে সোহরাব তাকে পানের আড়তসংলগ্ন নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে দুই শিশুসন্তানের সামনে তাকে ধর্ষণ করা হয়। আতঙ্কিত দুই শিশুর ডাকচিৎকার ও কান্নাকাটিতেও থামেনি নির্যাতন।

তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে তাকে ফেলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে পানের আড়তে গিয়ে কয়েকজনকে বিষয়টি জানান। গৌতম ও শহীদ নামে দুই পান ব্যবসায়ী ৫০০ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। বিচার না পেয়ে দুই সন্তানসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলন্ত বাসের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় তার বড় ছেলে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।