ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ চার: মেঘনাপাড়ে স্বজনের অপেক্ষা ২৬ ঘণ্টায়ও ফুরায়নি

বিয়ে বাড়িতে আসার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় এখনও একই পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার ২৬ ঘণ্টা পরেও চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান নদীর প্রায় একশ ফুট নিচে শনাক্ত করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা। তাছাড়া ট্রলারডুবির পরপরই এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

ফায়ার সার্ভিস নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন শুক্রবার বিকেলে ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, নদীতে স্রোত রয়েছে। এজন্য উদ্ধার কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। সেই সঙ্গে স্রোতের টানে নিখোঁজ ৪ জনের দেহ অন্য কোথাও ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে তাদের স্বজনরা মেঘনার তীরে অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ মাঝে মধ্যে ঢুকরে কেঁদে উঠছেন। কেউ বিলাপ করে কাঁদছেন। তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা উপস্থিত কারও ছিল না। আকস্মিক এই ঘটনায় বিয়ে বাড়ির আনন্দ নিমিষেই বিষাদে পরিণত হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হারিয়া এলাকার সাজিয়া আক্তার ও শিশিরের বিয়েতে অংশ নিতে নারী-পুরুষ শিশুসহ ১৪ স্বজন কুমিল্লার হোমনা থেকে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হারিয়া এলাকায় আসছিলেন। ট্রলারে বিয়ের বাজার, দুটি গরু এবং একটি ছাগলও ছিল।

বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ট্রলারটি নদীর সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ওই সময় ঘটনা দেখতে পেয়ে কাছাকাছি থাকা আমান কোম্পানির একটি ট্রলার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নয়জনকে জীবিত উদ্ধার করে। পাশাপাশি রায়েশা বেগম (৪০) নামে এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। 

নিখোঁজ রয়েছেন একই পরিবারের হেলাল উদ্দিন (৫৫), তার ছেলে সজীব (২৪), মেয়ে সামিয়া (১৭) ও শিশুপুত্র সামিন (৫)। 

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার অভিযান শেষ করার পর শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে আমাদের দল আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে তিনজন ডুবুরি নদীতে নেমেছেন। পানির নিচে অনুসন্ধানের জন্য ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ও কোস্টগার্ডের দুটি দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।’