কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে বন্দী রাখা ১৭ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫, সিপিসি-১ (টেকনাফ ক্যাম্প)।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টেকনাফ থানাধীন দক্ষিণ লম্বরী এলাকার একটি বাড়িতে পরিচালিত অভিযানে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এদিন রাতে কক্সবাজারের স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫ এসআরবির মিডিয়া কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এসআরবি-১৫, সিপিসি-১ এর একটি আভিযানিক দল জানতে পারে যে, একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র অসহায় কিছু ব্যক্তিদের জবরদস্তিমূলকভাবে অবৈধ উপায়ে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে টেকনাফের দক্ষিণ লম্বরী এলাকার মো. ইব্রাহীমের বসতবাড়িতে জড়ো করেছে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বিকেলের দিকে এসআরবি-১৫ এর আভিযানিক দল টেকনাফের দক্ষিণ লম্বরী মো. ইব্রাহীমের বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে চতুর পাচারকারীরা কৌশলে দিক-বিদিক পালিয়ে যায়। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মূখে তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১৭ জন পুরুষকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরা কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। এদের মধ্যে রয়েছে-বান্দরবান জেলার লামা থানার মো. জাফর আলম, মো. নুরুল হুদা, মো. শাহিন শাহরিয়ার হৃদয়, মো. বেলাল, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. সাফায়েত হোসেন, মো. জাফর আলম এবং কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, রামু, সদর ও টেকনাফ থানার মো. মামুনুর রশিদ, মো. তাফসির, মো.আশরাফ হোসেন, মো.বাবুল, মো. আনসার উদ্দিন, মো. নুরুল আফসার, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সাইফুল ইসলাম, মোঃ জোবায়ের, মো. নুর মোস্তফা।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, মানবপাচারকারী চক্রটি আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে এবং জবরদস্তিমূলক শ্রম আদায়ের ফাঁদে ফেলে এই নিরীহ মানুষগুলোকে নৌপথে বিদেশে পাচারের জন্য উক্ত স্থানে জড়ো করেছিল।
ঘটনার পর পলাতক ও অজ্ঞাতনামা পাচারকারীদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে এসআরবি-১৫ গোয়েন্দা নজরদারি ও তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীদের পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।