রাশিয়া ক্রমাগত বিমান হামলায় ইউক্রেনের বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ইস্পাত প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আর্সেলোরমিত্তাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পাঁচ সপ্তাহে চারবার হামলা চালিয়ে কারখানার ব্যাপক ক্ষতিসাধন এবং পাঁচজন শ্রমিকের মৃত্যুর পর কারখানাটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
একসময় ইউক্রেনের মোট রপ্তানির ১৫ শতাংশ যোগান দেওয়া ইস্পাত খাতের জন্য এই সিদ্ধান্ত বড় একটি আঘাত। সম্প্রতি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের অবকাঠামো, লজিস্টিক নেটওয়ার্ক এবং কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলোতে আক্রমণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ডাটা সেন্টার, খাদ্য গুদাম ও ইন্টারনেট সরবরাহকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে মস্কো সাধারণ জীবনযাত্রাকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।
চলমান প্রতিরক্ষা ব্যয় মেটাতে ইউক্রেন তাদের সহযোগীদের কাছে অতিরিক্ত ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার দাবি করেছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ঋণের অর্থ দ্রুত ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জেলেনস্কি জানান, আগামী বছরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যেই নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ের কার্যাদেশ দিতে হবে।
জেলেনস্কি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন যেন তিনি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে রাশিয়ার ওপর প্রভাব খাটিয়ে যুদ্ধ বন্ধে রাজি করানোর উদ্যোগ নেন। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে মার্কিন সফরে গিয়ে মঙ্গলবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকও করেন জেলেনস্কি। ন্যাটো জোটের সদস্যরা রাশিয়াকে সাহায্য করার জন্য চিনকে প্রধান সহায়ক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, ইউরোপের সঙ্গে কোনো ধরনের সংঘাতে জড়ানোর পরিকল্পনা তাদের নেই। ন্যাটোর কিছু সদস্য দেশ রাশিয়ার দূরপাল্লার হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করার প্রেক্ষিতে পুতিন জানান, উত্তেজনা বাড়ানোর কোনো উদ্দেশ্য তাদের নেই এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন।
ইউরোপের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফ্রান্স ও জার্মানির আসন্ন নির্বাচনে ইউক্রেন-বিরোধী দলগুলো জয়ী হলেও ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে। লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্তুতিস বুদ্রিস এবং এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগাস সাহকনা জানিয়েছেন, ইউরোপের প্রধান লক্ষ্য হলো ইউক্রেনের বর্তমান চাহিদা পূরণ করা।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ জন সেনেটরের একটি দ্বিপক্ষীয় দল আগামী ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি২০ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে দেওয়া আমন্ত্রণ বাতিলের জন্য ট্রাম্পকে চিঠি দিয়েছেন। সেনেটর মিচ ম্যাককনেল, রজার উইকার ও ক্রিস কুনস সহ অন্য নেতারা চিঠিতে উল্লেখ করেন, ইউক্রেনে প্রতিনিয়ত বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো দেশের প্রধানকে এই সম্মেলনে সুযোগ দেওয়া ঠিক হবে না।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান