টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসনের কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়ের দাদি ৯৮ বছর বয়সী আখতার জাহানের জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সখীপুরের সূর্যতরুণ শিক্ষাঙ্গন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তার প্রথম জানাজার আয়োজন করা হয়।
জানাজা শুরুর ঠিক পূর্বে স্থানীয়দের সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দাদির রূহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া চান ভারতে অবস্থানরত অনুপম। মাইকের মাধ্যমে উপস্থিত মুসল্লিদের তার বক্তব্য শোনানো হয়। প্রায় পৌনে চার মিনিটের বক্তব্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে দাদির জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।
অনুপম বলেন, সর্বশেষ গত ১৯ সেপ্টেম্বর ফোনে দাদির সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। ওই সময় দাদি তাকে বলেছিলেন, ‘দাদু, তোমার সঙ্গে কি আমার আর কখনো দেখা হবে না?’ জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘আগামী শীতে তোমার সঙ্গে অবশ্যই দেখা হবে।’
নিজের বক্তব্যে টাঙ্গাইল-৮ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানকে ধন্যবাদ জানান অনুপম। তিনি বলেন, রাজনীতির যে সৌন্দর্য ও সৌজন্যতা তিনি দেখিয়েছেন, এ জন্য তাকে ধন্যবাদ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে অনুপম ও তার চাচা সখীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল প্রকাশ্যে নেই। স্থানীয় সূত্রের দাবি, অনুপম বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। আর জুলফিকার হায়দার দেশেই আত্মগোপনে রয়েছেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ওপর হামলার অভিযোগে অনুপম ও জুলফিকার হায়দারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
আখতার জাহানের স্বামী ছিলেন সখীপুর উপজেলার বৃহত্তর গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রয়াত মোখতার আলী তালুকদার। তাদের বড় ছেলে শওকত মোমেন শাহজাহান টাঙ্গাইল-৮ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বাবা শওকত মোমেনের মৃত্যুর পর এই আসন থেকে নির্বাচিত হন ছেলে অনুপম শাহজাহান জয়।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান আখতার জাহান। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পাঁচ দিন আগে তাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানাজায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী এবং বিএনপি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।