ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে সম্পূর্ণ ‘নতুন সামরিক প্রযুক্তি’ ব্যবহারের প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফাজল শেখারচি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য যে কোনো সামরিক হামলা মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রস্তুত রয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
শেখারচি বলেন, অসম যুদ্ধকৌশল (অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার) এবং সম্পূর্ণ দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানের সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতায় যুগান্তকারী উন্নয়ন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে অতীতের যেকোনো সংঘাতের তুলনায় ইরান বর্তমানে রণকৌশলগত দিক থেকে বহুগুণ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, তাদের স্থল, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সুসংহত। বিশেষ করে দেশটির দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আধুনিক ড্রোনের প্রযুক্তি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, নিখুঁত ও ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠেছে।
শত্রুপক্ষকে সতর্ক করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখারচি বলেন, সম্ভাব্য যে কোনো ধরনের হঠকারী আগ্রাসন চালালে এবার শত্রুর জন্য নতুন চমক অপেক্ষা করছে এবং ইরান প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে আধুনিক সমরাস্ত্র ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তি দিয়ে সেই আঘাতের সমুচিত জবাব দেবে।
ইরানের সামরিক কৌশলের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে অসম যুদ্ধকৌশলের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি জানান, শত্রুপক্ষের অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ভারী সমরাস্ত্রকে নিষ্ক্রিয় করতে ইরান তুলনামূলক কম খরচের, অত্যন্ত কার্যকর ও বাস্তবসম্মত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারে সাফল্য অর্জন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তেহরান যে নিজস্ব ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে আসছে, শেখারচির বক্তব্যে তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এমন উচ্চপর্যায়ের হুঁশিয়ারি এলো, যা সম্ভাব্য সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তেহরানের কঠোর পাল্টা ব্যবস্থার পূর্ণ প্রস্তুতির স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।