সালিসি বৈঠকে যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে যখম

নাটোরের গুরুদাসপুরে গ্রামের সালিসি বৈঠকের মধ্যেই জহুরুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিকের মজুরি নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় জহুরুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই নারীসহ আরও ছয়জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত জহুরুল ইসলাম ওই গ্রামের জলিল শেখের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক। তাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মামুদপুর গ্রামের সাইফুল কসাই ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় সাইফুল কসাইসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাতজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন জহুরুলের ভাই রুবেল শেখ।

প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল কুদ্দুস প্রামাণিক বলেন, শুক্রবার রাতে ঘটে যাওয়া একটি তুচ্ছ ঘটনা মীমাংসা করতে শনিবার রাতে গ্রামের প্রধানরা সালিস ডাকেন। স্থানীয় শমসের দোকানে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে গ্রামের প্রায় ২০০ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জহুরুলও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে সাইফুল কসাইয়ের নেতৃত্বে জিহাদ, আশিক, নাজমুল, সেলিমসহ ১০ থেকে ১২ জন জহুরুলের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়।

জহুরুলকে রক্ষা করতে গিয়ে তার স্ত্রী, ভাবি, বাবা জলিল শেখ, চাচাতো ভাই রুবেল ও প্রতিবেশী মাজেম আলী আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, আহত জহুরুলের মাথায় আটটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

বিএনপি নেতা ও গ্রামপ্রধান আবু রায়হান বলেন, গ্রামের লোকজনকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সালিস চলছিল। কিন্তু শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সাইফুল লোকজন নিয়ে জহুরুলের ওপর হাতুড়ি দিয়ে হামলা করেন। হাতুড়ির আঘাতে জহুরুল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হামলা ঠেকাতে গিয়ে তিনিসহ আরও কয়েকজন আহত হন। তিনি ঘটনার বিচার দাবি করেন।

আহত জহুরুলের বাবা জলিল শেখ বলেন, সাইফুল কসাইয়ের কাছে বিডিআর নামের এক ব্যক্তি কাজের মজুরি বাবদ ৮০০ টাকা পান। ওই টাকা নিয়ে সাইফুলের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার ছেলে জহুরুল সাইফুলকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। ওই ঘটনার মীমাংসা করতেই শনিবার গ্রাম্য সালিস ডাকা হয়। কিন্তু আপস করতে এসে সাইফুল ও তার লোকজন অতর্কিত হামলা চালিয়ে তার ছেলেসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের আহত করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

চা দোকানি শমেস বলেন, তার দোকানেই সালিস বসেছিল। দোকানের আয়েই তার সংসার চলে। হামলার সময় তার দোকানের টেলিভিশন ভেঙে গেছে এবং অন্যান্য বিক্রয় সামগ্রীও নষ্ট হয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

অভিযুক্ত সাইফুল কসাই ও তার লোকজন পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আহত জহুরুলের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।