কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৫৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কুবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি ওঠে। 

এরই মধ্যে গত বুধবার থেকে পুলিশ জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু করে। কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরও ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে পুলিশের সকল ইউনিটের অভিযান পরিচালনা করা হয়। রবিবার সকালে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তার ভাষ্য, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।   

পুলিশ জানায়, কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ জেলার প্রত্যেকটি থানা এলাকার যেসব স্থানে কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে সেই সকল স্থানে কিশোর গ্যাংবিরোধী এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। এই অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের অপরাধের সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। 

এদিকে, কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে- অভিযানে নগরী থেকে ৩৭ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে অন্যতম আটক আনিক (১৯) নগরীর ছোটরা এলাকার মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশেমের ছেলে। পুলিশের বলছে, আনিক কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগনে। রতন বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় আনিক গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, এ থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে গত বুধবার কুমিল্লায় এক রাতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। অপর ১৭৩ জনকে আদালতে পাঠানো হয়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) এর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পর দিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী লালমাই পাহাড়ের সানন্দা নামক এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কুবির সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে। এ ঘটনায় অপ্রতিমের বাবার দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত করছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ হত্যার ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), মো. কামরুল হাসান (১৬) এবং মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে সিয়াম ছাড়া অপর ৩ জন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা কিশোর গ্যাংয়ে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য সামনে আসার পরই জেলার বিভিন্ন কিশোর গ্যাং আলোচনায় আসে এবং তাদের আটক করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।